• বিজেপির গলার কাঁটা তৃণমূলের ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’-র প্রচার
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিজিৎ দাস, কলকাতা: ‘মৎস্য মারিব, খাইব সুখে...’ অন্নপ্রাশন, উপনয়ন থেকে বিয়ের তত্ত্ব—মাছ ছাড়া বাঙালির অনুষ্ঠান আলুনি! ভোটের বাজারেও রাজনীতির জাল কাঁপাচ্ছে বাঙালির ‘মৎস্যাবতার’। বাঙালির পরিচয়, সংস্কৃতি ও অস্মিতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রবাদটি। এই বঙ্গ আবেগ ব্যবহার করেই রাজনৈতিক মাইলেজ ঘরে তুলতে তৎপর তৃণমূল। আর সেই আবেগকে অস্ত্র করেই পুরুলিয়ার সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তাঁর দাবি, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের আর মাছ খেতে দেবে না। মাংস-ডিম খাওয়াতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করবে।’ ভিন রাজ্যের নিরামিশভোজী বিজেপি নেতারা মাছ দেখে নাক সিঁটকালেও তৃণমূলের এই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রচারে বিড়ম্বনার অন্ত নেই বাংলার বিজেপি প্রার্থীদের। প্রচারে বেরিয়ে তাঁদের বোঝাতে হচ্ছে, বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বদলের কোনো উদ্দেশ্য বিজেপির নেই। ক্ষমতায় এলে কোনোভাবেই মাছ-মাংসে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে না। হাতে আস্ত মাছ নিয়ে ভোটপ্রচার করতে দেখা গিয়েছে বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্রনাথ তিওয়ারি আবার মনোনয়নপত্র পেশ করতে গিয়েছেন মাছ নিয়ে মিছিল করে! অর্থাৎ ভোটের বাজারে ‘মৎস্যপ্রেমী বাঙালি’ পরিচিতির দখল নিতে চলছে জোর দড়ি টানাটানি। যদিও এক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই অ্যাডভান্টেজ তৃণমূল।

    ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র আবেগ ভীষণভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের প্রচারেও। ইলিশ ভাপা, পাবদা ঝাল, চিংড়ির মালাইকারি, কষা মাংস সহযোগে বাঙালি পাতের ছবি পোস্ট করেছে জোড়াফুল শিবির। সঙ্গে অমিত শাহের প্রতি বিদ্রুপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজে ১৫ দিন বাংলায় থেকে প্রচার চালাবেন। সেই সূত্রেই মাছ-মাংস সহযোগে বাঙালি পাতের ছবি দিয়েছে তৃণমূল। তাদের কটাক্ষ, বাংলা মুক্তহস্তে পর্যটকদের স্বাগত জানায়। অমিত শাহ বাংলায় ১৫ দিন কাটাবেন ভালো কথা। যতদিন ইচ্ছা থাকুন। আর আমাদের কিছু সুস্বাদু খাবার চেখে দেখতে ভুলবেন না। এরপরই আমিষ বাঙালি পদগুলির নাম পরপর লেখা হয়েছে। সঙ্গে টিপ্পনী, ‘আপনার জীবন আনন্দের হোক’।

    তৃণমূলের এই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ প্রচারে নিশ্চিতভাবেই বেগ পেতে হচ্ছে বঙ্গ বিজেপিকে। তার কারণও আছে। স্কুল, উপাসনাস্থল সহ বিভিন্ন স্থানে মাছ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিনহাকে। বিজেপি শাসিত দিল্লিতেও বাঙালি মাছ বিক্রেতার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি, খাস কলকাতায় ব্রিগেডের মাঠে একটি জমায়েতে এক চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে এখানে উত্তর ভারতীয় নিরামিশ খাদ্যাভাসের সংস্কৃতি চালু করবে। ফলে ভোটের বাজারে মাছ ধরতে গিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে বিজেপির। ছিপ হাতে দিলীপ ঘোষের পুরানো ভিডিয়োও বিশেষ কাজে দিচ্ছে না। পদ্মশিবিরের বড়শি ভোঁতা দেখে বেজায় খুশি তৃণমূল।
  • Link to this news (বর্তমান)