পড়ুয়া ভরতি, কলেজগুলিতে এক নিয়ম চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় পোর্টালে ভরতিতে সাম্য আনার চেষ্টা শিক্ষাদপ্তরের
বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্নাতকে ভরতির কেন্দ্রীয় পোর্টালে পড়ুয়াদের যোগ্যতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য আনার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল গত বছর। বিকাশ ভবনের তরফে সেই বার্তা পাওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তা প্রয়োগে উদ্যোগী হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ৪০টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, তারপরও এ সংক্রান্ত কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। বরং বৈঠক বেশ উত্তপ্তই হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় প্রায় দেড়শো কলেজকে ঐক্যমতে আনা সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
ভরতি প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে চললেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে পৃথক পদ্ধতিতে যোগ্যতা যাচাই করে থাকে। তার মূল সূচক হল উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর। তবে ক’টি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর গ্রাহ্য হবে, কোন বিষয়ে অনার্স নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুধু পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই নয়, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজেও এক্ষেত্রে মতের ফারাক আছে। সে কারণেই কলেজগুলি এ ক্ষেত্রে রাজি হচ্ছে না।
একজন অধ্যক্ষ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় চাইছে বেস্ট অব ফোর অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে পড়ুয়া ভরতির নিয়ম চালু করতে। আমাদের কলেজে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়ুয়া ভরতি করতে বাংলা এবং ইংরেজির নম্বরেও জোর দেওয়া হয়। কারণ এই বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট কোর্সের জন্য অপরিহার্য। যদি বেস্ট অব ফোরে সেই বিষয়গুলি না থাকে, তাহলে তো মুশকিল। একেবারে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে পড়ুয়া ভর্তি করা হলে তারাই সমস্যায় পড়বে।’ অন্য এক অধ্যক্ষের বক্তব্য, এখন বিষয় অনেক বেড়েছে। নতুন বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া ভরতি করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে সেভাবে পড়ানো হয় না। তাই তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু বিষয়ের নম্বর যাচাই করা হয়। শুধুমাত্র বেস্ট অব ফোরে সেই মূল্যায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, ‘বিকাশ ভবন থেকে একটি বার্তা এসেছে যাতে কেন্দ্রীয় পোর্টালে ভর্তির যোগ্যতা যাচাইয়ে একটা সাম্য থাকে। আমরা বেস্ট অব ফোর চাপিয়ে দিচ্ছি এমন নয়। অনেক কলেজ বেস্ট অব ফোরের পক্ষে। কিছু কলেজ চাইছে, বেস্ট অব ফোরের সঙ্গে যে বিষয়ে অনার্স নেওয়া হবে, তাতে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরটিও যোগ করা হোক। আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি অবশ্য এক্ষেত্রে কলেজের মান যাচাইয়ের ক্ষমতা খর্ব হবে বলে মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, একই নম্বর পেয়ে কোনো পড়ুয়া একটি কলেজে মেরিট লিস্টের উপরে থাকছে। অন্য কলেজে সে নীচের দিকে চলে যাচ্ছে। এটা মান যাচাইয়ের পদ্ধতির ভিন্নতার কারণেই হচ্ছে। এই ফারাক যাতে না থাকে, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।