• অভয়ার মা পদ্মশিবিরে, বিচার চেয়ে রাস্তায় নামা অরাজনৈতিক লোকজনও বেজায় ক্ষুব্ধ
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি কর মেডিকেল কলেজে অভয়ার খুন-ধর্ষণের ন্যায়বিচার চেয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। রাস্তায় নেমেছিলেন তাঁরাও, যাঁরা আগে কোনোদিন কোনো আন্দোলনে নামেননি, মিছিলে হাঁটেননি, ‘জাস্টিস’-এর দাবিতে সরব হননি। আর্থিক বা সামাজিক অবস্থানকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিবাদী মানুষের ভিড়ে শামিল হয়েছিলেন এমন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল পেশাদাররাও। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে গভীর ক্ষোভ ছিল তাঁদের। বিশেষত সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে। সেই অভয়ার মা এখন কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির টিকিটে পানিহাটির প্রার্থী হওয়ায় হতাশ সেই প্রতিবাদীদের বড় অংশ। ক্ষুব্ধও অনেকে। 

    তাঁদের সাফ কথা, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের কথা ভেবে হাঁটিনি। সৎ আবেগে গলা মিলিয়েছিলাম মানুষের ভিড়ে। বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, সেই বিজেপির হাত উনি কীভাবে ধরলেন? আমাদের মন ভেঙে গিয়েছে।’ 

    বেসরকারি বহুজাতিক ব্যাংকের পদস্থ কর্মী প্রসূন দে বললেন, ‘অভয়ার মায়ের সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু উনি ঠিক কী কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়ে প্রার্থী হলেন, বুঝতে পারছি না। যদি উনি মেয়ের ন্যায়বিচা঩রের দাবিতে এই সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই বিধানসভার কেন্দ্রের মানুষ দিনের শেষে কী পাবেন তাঁর কাছে? তাঁদের তো জল, বিদ্যুৎ, রাস্তা, বাজার, ভালো স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল সহ নানা প্রত্যাশা থাকে। তাঁরা নিশ্চয় এমন কাউকে চাইবেন, যিনি এলাকার মানুষের এসব দৈনন্দিন সুবিধা-অসুবিধার দ্রুত প্রতিকার করবেন। সেখানে ওঁর প্রার্থী হওয়ার কারণ তো শুনছি মেয়ের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। অভয়া ন্যায়বিচার পাক, সে তো আমরাও মনেপ্রাণে চাই। কিন্তু, দুটো দাবি আলাদা জায়গায়। দুটোকে মিলিয়ে ফেললে মুশকিল। আর যদি উনি দেশ-দশের মঙ্গল করার জন্য প্রার্থী হন, তাহলে সেই যুক্তিকে আমি সমর্থন করব। সাধুবাদ দেব।’ অভয়ার জন্য ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’-এর দাবিকে আবেগের সঙ্গে সমর্থন করেছিলেন রাজ্যের একটি নামকরা বেসরকারি সংস্থার পদস্থ কর্মী শতরূপা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘অভয়ার মায়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমার কষ্টই হচ্ছে। কাণ্ডকারখানা দেখে আমি কনফিউজড। কারণ, যে রাজনৈতিক দলের তিনি প্রার্থী হলেন, তাদের নেতৃত্বাধীন সরকারই তো সিবিআই পরিচালনা করে। সেই সিবিআইর কাছ থেকেই তো বিচার পেলেন না উনি। তাহলে কোন যুক্তিতে রাজনীতির কারবারীদের হাত ধরলেন? আসলে সৎ, আবেগপ্রবণ আন্দোলনের এমন পরিণতি আমরা আগেও দেখেছি। রিজওয়ানুরের ঘটনা ভুলব কীভাবে? আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হল, সৎ আবেগ নিয়ে ন্যায়বিচার চেয়ে রাস্তায় নামার পর একাধিকবার দেখছি, সবকিছু ঢেকে দিচ্ছে রাজনীতি। মাঝখান থেকে আমরা বোকা বনে যাচ্ছি।’ প্রসঙ্গত, পানিহাটি বিধানসভায় বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়ে অভয়ার মা জানিয়েছিলেন, বিচার পেতে গেলে প্রভাবশালী হওয়ার দরকার আছে। তাই তিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। জিতলে অভয়া ঠিকই ন্যায়বিচার পাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)