নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার দুপুরে ময়দান থানা এলাকায় এক যুবতীকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তাঁর চিৎকার‑চেঁচামেচিতে ওই চত্বরে থাকা কয়েকজন ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে পুলিশ ও চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে ওই যুবতী ঘটনার বিষয়ে তাঁর জবানবন্দি পেশ করেন। কিন্তু, শনিবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে মামলা চলাকালীন ওই যুবতীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন সরকারি আইনজীবী। সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, ওই মহিলা মারা গিয়েছেন। সেই মর্মে কাগজপত্র হাতে পেলে ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হবে।’ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ যুবতির বক্তব্য খতিয়ে দেখে পুলিশ বেলেঘাটা থেকে অভিযুক্ত যুবককে পাকড়াও করে। শনিবার তাকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করা হয়। সরকারি কৌঁসুলি ধৃতের জামিনের জোরালো আপত্তি জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষে বিচারক ধৃতের জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন আদালতে সওয়ালে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, শুক্রবার অভিযুক্ত যুবক ৩০ বছরের ওই যুবতীকে ফোন করে ডাকেন। এরপর তাঁরা দু’জনে ময়দান এলাকায় যান। অভিযোগ, সেখানে তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র কথা‑কাটাকাটি শুরু হয়। তারই মধ্যে একসময় উত্তেজিত হয়ে যুবক তাঁর ব্যাগের মধ্যে থাকা বোতল ভরতি কেরোসিন যুবতীর গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। অভিযোগ, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় যুবতী বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। ওই কথা শুনে সেখানে থাকা কয়েকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবক চম্পট দেয়। পরে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ। সরকারি কৌঁসুলি এদিন আদালতে বলেন, কি কারণে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, পুলিশ তা তদন্ত করে করে দেখছে। যুবকের সঙ্গে ওই যুবতীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল না কি অন্য কোনও কারণে এই ঘটনা ঘটে সমস্ত বিষয়টিই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।