• মোথাবাড়ি কাণ্ড: ঘেরাও হয়ে থাকা বিচারকদের সঙ্গে কথা এনআইএ’র
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মালদহে মোথাবাড়িতে ঘেরাও হয়ে থাকা  বিচারকদের সঙ্গে কথা বলে সেদিনের ঘটনা নিয়ে তথ্য নিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। একইসঙ্গে কন্ট্রোল রুম   কখন ঘটনার খবর জেনেছিল এবং কত সংখ্যক পুলিশ কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল, পুলিশ আধিকারিকদের কাছ থেকে তা নিয়ে বিস্তারিত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

     মোথাবাড়ি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৯। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এনআইএ জানতে চাইছে, কার নির্দেশে সেখানে জড়ো হয়েছিল সবাই। কেই বা দিয়েছিল উসকানি। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভের নামে মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসে সাত বিচারককে জোর করে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে উস্কানি দেয় আইএসএফ, মিম সহ নিষিদ্ধ সংগঠন সিমি এবং পিএফআই। বিচারকদের উদ্ধার করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। বিচারকদের সেখান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হয় পুলিশ। তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুক্রবার মালদহে গিয়ে তদন্ত শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। যে বিডিও বিচারকদের অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে যান এনআইএ’র তদন্তকারীরা। এরপর কথা বলেন বিচারকদের সঙ্গে।

     তাঁদের কতক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল, কোথায় কোথায় তাঁরা বিষয়টি জানিয়েছিলেন এই নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। একইসঙ্গে ওই বিডিও অফিসে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে, সেটা জানিয়ে বিচারকদের তরফে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, জেলাশাসককে তার কপি সংগ্রহ করেন। একইসঙ্গে বিচারকদের উদ্ধার করে যে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার চালকদের বয়ান রেকর্ড করেন। 

     এরপর টিম যায় মালদহে জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুমে গিয়ে লগবুক সংগ্রহ করা হয়। থানা খবর পেয়ে কখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তা জানতে জিডি কপি খতিয়ে দেখে সেটি সংগ্রহ করেছেন অফিসাররা। এমনকি জেলা পুলিশের সদর দপ্তর থেকে পুলিশ আরেঞ্জমেন্টের কপি নিয়ে গিয়েছেন।  তদন্তকারীরা দেখতে চাইছেন, কেন উদ্ধার করতে দেরি হলো বিচারকদের। 

    তবে গোটা ঘটনা যে পূর্ব পরিকল্পিত সেটি জানতে পেরেছে এনআইএ’র টিম। পুলিশ সুপার নিজে না গিয়ে কেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন, সেটা দেখছেন তাঁরা। সেই কারণে বেশ কয়েকজন আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। তদন্তকারী সংস্থার অন্য একটি টিম ঘটনায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সমস্ত তথ্য তারা আগামী সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে রিপোর্ট আকারে জমা করবে।
  • Link to this news (বর্তমান)