• সেক্টর ফাইভে কল সেন্টারের আড়াল থেকে ভোটারদের আর্থিক টোপ, অভিযুক্ত বিজেপি, তীব্র আলোড়ন রাজনৈতিক মহলে
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: কল সেন্টারের ‘আড়ালে’ আর্থিক টোপ দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল সল্টলেকে! অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। অভিযোগ, সল্টলেকের পাঁচ নম্বর সেক্টরে এক বহুতল থেকে ফোন করে, এরাজ্যের ভোটারদের  টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছিল।  

    বিধানসভা ভোটের মুখে বহুতলের এক সূত্রে বেআইনি কল সেন্টারের অভিযোগ পেয়ে, ‘এনকোয়ারি’ করতে মাঠে নামে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। সংশ্লিষ্ট থানার এসআই  হামিদ মোল্লার নেতৃত্বে একটি টিম যায় ইপি-জিপি ব্লকের কনজারভেন্স কনট্যাক্ট সেন্টারে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখে, অন্তত ৩০-৩৫ জন ছেলেমেয়ে সেখানে জটলা করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। পুলিশ অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করতেই কর্মীরা জানান, তাঁরা একটি কোম্পানির অধীনে কাজ করেন। যদিও নথিপত্র দেখতে চাইলে, তাঁরা পুলিশকে তা দেখাতে পারেননি।

    সূত্রের খবর, এই পর্বেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বঙ্গ বিজেপির এক শীর্ষ নেতা। তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেন, ‘এটা বিজেপির পার্টি অফিস। এখানে পুলিশ কেন অভিযান চালাবে?’ পুলিশকে তল্লাশি চালাতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকী পুলিশকর্মীদের বেআইনিভাবে আটকে রেখে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাচক্রে ওই বহুতল থেকে মেরেকেটে দেড় কিমি দূরে বিজেপির মূল পার্টি অফিস। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে টানাপোড়েন চলার মাঝেই প্রভাবশালী মহল থেকে বিধাননগর কমিশনারেটের উপর চাপ আসতে শুরু করে। শেষপর্যন্ত ঘটনাস্থলে যান বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার ওসি। শীষকর্তাদের হস্তক্ষেপে ফিরে আসতে বাধ্য হয় পুলিশ বাহিনী। 

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই বহুতল থেকে পুলিশের কাছে খবর যায়, ‘প্রতিদিন ওই অফিসে ৩০-৩৫ জন ছেলেমেয়ে ল্যাপটপ নিয়ে আসছেন। সারাদিন থাকার পর তাঁরা রাতে ফিরে যাচ্ছেন। কল সেন্টার খোলা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন লোকজনকে ফোন করে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ জমা পড়ে। এরপরেই হানা দেয় পুলিশ। বহুতলের লোকজনের একাংশের অভিযোগ, কল সেন্টার থেকে এরাজ্যের ভোটারদের ফোন করে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনি প্রচারে ভোটারদের সতর্ক করে একাধিক জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়নকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘টাকা পাওয়ার আশায় ফোনে অজানা কাউকে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেবেন না।’ এই কল সেন্টারের বিষয়টি নিয়ে আদর্শ আচরণ বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বারবার ফোন এবং ভয়েস মেলে বার্তা দেওয়া হলেও, তার কোনো উত্তর আসেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)