শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে বিজেপির পঞ্চম প্রার্থী তালিকা। ওই তালিকা অনুসারে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু ঘোষিত প্রার্থীকে পছন্দ নয় দলের একাংশের। এরই প্রতিবাদে শনিবার রাতে কৃষ্ণনগরে (Krishnanagar) দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপির (BJP) নেতাকর্মীদের একাংশ। এই আসনে প্রার্থী বদল করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
২০২১ সালের নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে জিতেছিলেন মুকুল রায়। বিজেপির টিকিটে জিতলেও তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি প্রয়াত হন মুকুল রায় (Mukul Roy)। তবে তিনি থেকে গিয়েছিলেন বিজেপির বিধায়ক হিসেবেই।
এ বার এই আসনেই প্রার্থী করা হয়েছে তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু তা নিয়েই অসন্তোষ নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণনগরে। তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে নারাজ দলেরই একাংশ। এই কারণেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই কৃষ্ণনগরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন কর্মী সমর্থকরা। তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করায় নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক বিজেপির জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা।
লোকসভা নির্বাচনেও কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে অনেক দেরিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও তাতে সন্তুষ্ট নয় বিজেপির একাংশ। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের আশা ছিল যেহেতু দেরি করে নাম ঘোষণা করা হচ্ছে হেভিওয়েট কাউকে প্রার্থী করতে চলেছে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে।
কিন্তু হঠাৎ করে কৃষ্ণনগরের ভূমিপুত্র তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়র নাম ঘোষণা করার পর দলের অন্দরে রীতিমতো বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাতেই বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে ক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, দলের কারোর সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি। এই কারণে অবিলম্বে প্রার্থী বদল করার দাবি করেছেন দলের নেতা বাপি শীল, দীপঙ্কর মণ্ডল-রা। তাঁদের দাবি, জেতা আসনকে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে। প্রার্থী বদল না হলে তাঁরা কেউই দলের হয়ে প্রচারে নামবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। যদিও এই নিয়ে রাতে দলের সভাপতি বা অন্য কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এর আগেই, একাধিক জায়গায় প্রার্থী বদল করার দাবি করেছিলেন দলের কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি মেনে অন্তত ৩টি আসনে প্রার্থী বদল করেছে বিজেপি।