এই সময়, রামপুরহাট: দলের বৈঠকে সাংসদ শতাব্দীর রায়ের সামনেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে বীরভূমের মুরারইয়ে। এ দিন মুরারই-১ ব্লক তৃণমূলের কার্যালয়ে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক ডেকেছিলেন শতাব্দী। সেই বৈঠকে বিনয় ঘোষ, আলি মুর্তজা ছাড়াও ছিলেন বিধানসভা ভোটে মুরারইয়ের তৃণমূল প্রার্থী মোশারফ হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য সিরাজুল খান, বাবলু ভকত, নুরজাহান বেগমরা।
বৈঠক চলাকালীন কর্মীদের একাংশ নিজেদের অভাব অভিযোগের কথা জানান শতাব্দীকে। বৈঠকের শেষের দিকে গোলমাল শুরু হয় ব্লক সভাপতি বিনয় ঘোষ এবং তৃণমূলের রাজ্য সংখ্যালঘু প্রসেলের সম্পাদক আলি মুর্তজা খানের অনুগামীদের মধ্যে। পরিস্থিতি দেখে বিব্রত বোধ করেন শতাব্দী। তিনি বলেন, 'এত গোষ্ঠীবাজি ঠিক নয়। দল যদি করতে হয়, একসঙ্গে করতে হবে।
এটা স্থানীয় নেতৃত্বের দলকে জানানো উচিত।' তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে মুর্তজা শতাব্দীর কাছে অভিযোগ করে বলেছেন-দলের একজন পঞ্চায়েত সদস্য এবং দু'জন পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী অন্য দলের হয়ে কাজ করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর পরেই ব্লক সভাপতির সঙ্গে মুর্তজার কথা কাটাকাটি হয়, পরে অবস্থা বিগড়ে যায়।
অন্য দিকে, এ দিন তারাপীঠে হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী কাজল শেখের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দেখা যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সভায় পৌঁছনার আগেই কাজল ও অনুব্রত মণ্ডল সভামঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন। যদিও কেউ কারও সঙ্গে কথা বললেন না। দূরত্বটা অভিষেক সভামঞ্চে পৌঁছনোর পরেও থাকল।
যদিও প্রার্থী হিসেবে কাজলের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরে সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে আলাদা করে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন অভিষেক। পাশাপাশি হাঁসনে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিতলে মারগ্রাম থেকে তারাপীঠ যোগাযোগের জন্য সেতু এবং ব্রাহ্মণী নদীর উপরে দেবগ্রাম সেতু তৈরির আশ্বাস দেন অভিষেক। আবার সভা শেষ করে গাড়িতে ওঠার সময়ে অভিষেক অনুব্রতর হাত ধরে মঞ্চ থেকে গাড়ি পর্যন্ত গেলেন কথা বলতে বলতে। দুই যুযুধান নেতাকে পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। আবার সভামঞ্চ বক্তৃতা দিতে উঠে-'কাজলকে ভোট দেওয়া মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট,' এই কথাও বললেন অনুব্রত।