• দিনভর প্রচার সেরে রাতে বাদ পড়া লিস্টের তদারকি, ভোটের আবহে রুটিন অভিষেকের
    এই সময় | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: সকাল–বিকেলে জেলায় জেলায় নির্বাচনী প্রচারে ছুটে বেড়ানো, আর সন্ধে থেকে রাত পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ পড়া কত ভোটার ট্রাইব্যুনা‍লে আবেদন করছেন, সেই তথ্য পর্যালোচনা— আপাতত এটাই রুটিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বীরভূমের হাসনের নির্বাচনী সভা থেকে শনিবার নিজেই এই দৈনিক রুটিনের কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

    বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যে ভোটারদের নাম ‘অ্যাজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল, তাঁদের আবেদনপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া এখনও চালাচ্ছেন বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন‍’ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫৭ লক্ষের নথির নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যা কমিশন প্রকাশ না–করলেও সূত্রের দাবি, গড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশের নথিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা।

    ‘অ্যাজুডিকেশন’ প্রক্রিয়ায় যে ব্যক্তির নাম কাটা যাচ্ছে, সেই ব্যক্তিদের আবেদন করার জন্য রাজ্যে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল এখনও চালু না হলেও সেখানে অনলাইনে আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ চলছে। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশে জেলায় জেলায় জোড়াফুলের নেতারা বাদ পড়া ভোটারদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। প্রতিদিন কত ভোটারের আবেদনপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তা মনিটর করছেন।

    জেলায় জেলায় প্রতিদিন দু’–তিনটি নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি থাকছে অভিষেকের। প্রচার সেরে কলকাতায় ফিরে রাত পর্যন্ত এই পর্যালোচনার কাজ তিনি নিজেই করছেন বলে জানিয়ে শনিবার অভিষেক বলেন, ‘সবার নাম আপিলেট ট্রাইব্যুনালে আপিল করার জন্য আমাদের পঞ্চায়েত স্তরে যাঁরা দায়িত্ব রয়েছেন, তাঁদের সকলের সঙ্গে আমার কার্যালয় প্রতিনিয়ত যোগাযোগে রয়েছে। বীরভূম থেকে কাল (শুক্রবার) একাধিক অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে। আমি সন্ধ্যাবেলায় গিয়ে এই পর্যালোচ‍না করি, কোথা থেকে কত অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়ল। কাদের নাম বাকি রয়েছে, কাদের নাম উঠেছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমি যেখানেই থাকি সূর্যাস্তের আগে কলকাতায় ফিরি। কারণ, সারা সন্ধ্যা, রাত্রি আমি এই কাজ করি।’ তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেক বিধানসভা ধরে ধরে এই মনিটরিংয়ের কাজ করছেন।

    যে ভোটারদের নাম ‘অ্যাজুডিকেশনে’ বাদ গিয়েছে, তাঁদের অভয় দিয়েছেন অভিষেক। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা বলেছেন, ‘যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, কেউ চিন্তা করবেন না। আপিল ফাইল করা হচ্ছে। আগামী ৬ এপ্রিল (সোমবার) সুপ্রিম কোর্টে ফের সার (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) নিয়ে মামলার শুনানি রয়েছে। আমরা মাঠেঘাটে, কোর্টে, সংসদে সার নিয়ে লড়াই করেছি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে সওয়াল করেছেন।’

    ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার আগে তৃণমূলের কলকাতা অফিসের সঙ্গে কথা বলে নেওয়ার জন্য দলের নেতা–কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়াফুল নেতাদের বক্তব্য, কলকাতার দলীয় অফিস বলতে তৃণমূ‍লনেত্রী অভিষেকের কার্যালয়কেই বোঝাতে চেয়েছেন। মালদায় নির্বাচনী প্রচারে মমতা দলের নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমরা আইনজীবী দেবো। সব সাহায্য করব। কলকাতার পার্টি অফিসের সঙ্গে কথা বলে, ফর্ম নিয়ে, সিস্টেম জেনে নিয়ে, বাড়ি বাড়ি যাবেন। দরখাস্ত নেবেন। অনলাইন ট্রাইব্যুনালে দরখাস্ত জমা দেবেন। আপিল করার চেষ্টা করুন, যাতে সবার নাম ওঠে ভোটার তালিকায়।’

    মালদা, মুর্শিদাবাদ জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ‘অ্যাজুডিকেশনে’র তালিকায় রয়েছে। এই কারণে এই জেলাগুলিতে ট্রাইব্যুনালে আপিলের কাজে প্রধান্য দিতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। নির্বাচনী মিছিল–মিটিং যতটা না–করলে নয়, ততটা আপাতত করার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। দলের সর্বস্তরের নেতাকে ট্রাইব্যুনালে আপিল করার কাজে মানুষকে সব রকম সাহায্য করার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। জোড়াফুলের হাসনের প্রার্থী কাজল শেখের নামও ‘অ্যাজুডিকেশন’ তালিকায় ছিল।

    যদিও পরে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে তাঁর নাম উঠেছে। অভিষেক এ দিন হাসনের সভায় সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘তৃণমূল এখানে অত্যন্ত উৎসাহী, সক্রিয়, মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ কাজল শেখকে প্রার্থী করেছে। কাজল নিজে সার–এর বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। কাজলের নাম আন্ডার অ্যাজুডিকেশন ছিল।’ কাজল–সহ জোড়াফুলের যে প্রার্থীদের নাম ‘অ্যাজুডিকেশনে’ ছিল, তাঁদের সবার নাম বিচার প্রক্রিয়ার শেষে ভোটার তালিকায় উঠেছে। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবেও কাজলের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে বীরভূমে একাধিক উন্নয়নের কাজ তিনি করেছেন। রাস্তাঘাট, ড্রেন, জলের পরিষেবা উন্নত করার কাজ করেছেন।’

  • Link to this news (এই সময়)