এই সময়: গত ১০ বছরে ভারতে সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে বলে উঠে এল একটি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক–গোষ্ঠীর রিপোর্টে। ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ নামে ওই গোষ্ঠী বিশ্বের ৩৫টি দেশে কাজ করে। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ লুট এবং খনি–মাফিয়াদের দুর্নীতির খবর সামনে আনায় অনেক সাংবাদিকের প্রাণ গিয়েছে।
তথ্য জানাচ্ছে, গত এক দশকে দেশে কমপক্ষে ২৮ জন সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। যাঁদের বড় অংশ পরিবেশ ধ্বংস ও তার সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে খবর করতে গিয়েছিলেন। এই পরিসংখ্যানের সূত্রে প্রশ্ন উঠেছে — দেশে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা’ কি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে? স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরিখে ১৮০টি দেশের মধ্যে ২০২৫–এ ভারতের স্থান ছিল ১৫১, তার আগের বছর ছিল ১৫৯।
সাংবাদিকদের উপরে খনি–মাফিয়াদের প্রাণঘাতী হামলার শুরুটা বেশ ক’বছর আগের। ২০১৫–য় উত্তরপ্রদেশে পুলিশি তল্লাশির মধ্যেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান ‘নিখোঁজ’ ফ্রিলান্স সাংবাদিক জগেন্দ্র সিং। নিজের প্রতিবেদনে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও বালি মাফিয়াদের যোগসাজশ সামনে আনছিলেন তিনি।২০১৬–য় উত্তরপ্রদেশেই করুণ মিশ্র এবং বিহারে রঞ্জন রাজদেবকে সবার সামনে গুলি চালিয়ে খুন করা হয়। খনি–মাফিয়াদের কীর্তিকলাপ ফাঁস করে দেওয়ার কারণেই তাঁরা ‘টার্গেট’ বলে অভিযোগ উঠেছিল।
২০১৮–য় মধ্যপ্রদেশে সাংবাদিক সন্দীপ শর্মাকে রাস্তার উপরে ডাম্পারে পিষে মেরে ফেলা হয়। ২০২০–তে লখনৌয়ে সাংবাদিক শুভম মণি ত্রিপাঠীকে গুলি করে মারা হয়। বালি–মাফিয়াদের বিরুদ্ধে খবর করায় আগেই প্রাণসংশয়ের কথা জানিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বাঁচতে পারেননি। এর বছর দুয়েক বাদে, ২০২২–এ বিহারের জার্নালিস্ট সুবাস কুমার মাহাতো এবং ২০২৩–এ মহারাষ্ট্রে শশীকান্ত ওয়ারিশে খুন হন। শশীকান্তকে গাড়ি দিয়ে চাপা দিয়ে মেরেছিল এক জমি–মাফিয়া।
এই ২৮ জনের তালিকায় থাকা একমাত্র মহিলা হলেন সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ। ভুয়াে খবর আর চরম দক্ষিণপন্থার বিরোধিতায় সুর চড়ানোর ২০১৭–য় বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়ির সামনেই গুলিতে খুন হন গৌরী।
পশ্চিমবঙ্গে সাংবাদিক–হত্যার ঘটনা না ঘটলেও পরিবেশ সচেতনতা এবং বাজি ও শব্দ দূষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাংলায় আবার বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবেশ অ্যাকাডেমির তরফে বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, ১৯৯৭ থেকে এ পর্যন্ত শব্দবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবৈধ বাজি কারখানাও কেড়েছে বহু প্রাণ। হাওড়ায় জলাভূমি রক্ষার আন্দোলনে ২০১১–য় বালি স্টেশনের কাছে গুলি চালিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ২০২২–এ তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে গেলেও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, সেই তদন্তও থমকে রয়েছে।