ইরানের বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রের কাছে হামলা চালাল আমেরিকান এবং ইজ়রায়েলি বায়ুসেনা। ওই পরমাণুকেন্দ্রকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক জনের। আহত হয়েছেন ওই পরমাণুকেন্দ্রে থাকা কয়েক জন। এর পরেই ‘মারাত্মক বিকিরণ ঝুঁকি’ নিয়ে সতর্ক করল ইরান। ওই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে তেহরান। হামলার নিন্দা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi)।
নির্ধারিত করে দেওয়া সময়ের মধ্যে হরমুজ় প্রণালী (strait of hormuz) না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump। এই হুমকির মধ্যেই ওই পরমাণুকেন্দ্রে ( nuclear facilities) হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। হামলায় পরমাণুকেন্দ্রের এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। জোরালো বিস্ফোরণে জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরমাণুকেন্দ্রের একাংশ। তবে এখনই তেজস্ক্রিয় পদার্থ বিকিরণের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (International Atomic Energy Agency)।
যদিও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, আমেরিকা বারে বারে টার্গেট করছে বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রকে। এই ধরনের হামলা পুরো অঞ্চলকে মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলেও দাবি তাঁর। এই পরিণাম মানবজাতি এবং পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন আরাঘচি।
ইরানের (Iran) বিদেশমন্ত্রী জানান, ‘বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় আক্রমণকারীদের বারবার হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। একটি চালু পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় এই হামলা এমন এক অসহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এই নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। এই নিয়ে ওই (Bushehr plant) কেন্দ্রে চার বার হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, ইরানের অনেক সামরিক নেতাকে খতম করা গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরানে আরও বড় হামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজ়রায়েলের (Israel) প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
এ দিকে পাল্টা হুমকি দিয়েছে তেহরানও। ইরান যুদ্ধে পরিকল্পনা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন এক আধিকারিক। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের জন্য একটি বড় চমক অপেক্ষা করছে বলেও সতর্ক করেছেন ইরানের আধিকারিক। এরই মধ্যে কুয়েতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ড্রোন হামলার পর কুয়েতের শুয়াইখ অয়েল সেক্টর কমপ্লেক্সে আগুন লেগেছে। ইরানি ড্রোন হামলায় দু’টি বিদ্যুৎ ও জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দু’টি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হয়েছে কুয়েত।