এই সময়: প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ় সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ শাণিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার কলকাতায় এসে তাঁর জবাব দিলেন লিয়েন্ডার। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, কলকাতার মাটিতে খেলা শিখেই তিনি অলিম্পিক্সের মঞ্চ থেকে পদক জিতে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে টেনিসের জন্য কোনও পরিকাঠামো নেই বলে আক্ষেপ করেছেন লিয়েন্ডার।
সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে কলকাতায় দেখা করেন তিনি। এর কিছুদিন পরেই গত মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং বঙ্গ–বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন লিয়েন্ডার। তাঁর আগমনে দেশজুড়ে বিজেপির শক্তি বাড়বে, বাংলার নির্বাচনেও বিজেপি ‘অ্যাডভান্টেজ’ পাবে, এমন দাবিও করেন সুকান্ত। কিন্তু প্রাক্তন টেনিস তারকা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিঁধতে শুরু করে তৃণমূল।
যার জবাবে শনিবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক করে লিয়েন্ডার বলেন, ‘আমার জন্ম কলকাতায়। এটাই আমার মাতৃভূমি। কলকাতার সাউথ ক্লাবে টেনিসে হাতেখড়ি হয়েছে। কলকাতা ময়দানেই খেলাধুলো করেছি ছোট থেকে। লা মার্টিনিয়ার স্কুলে পড়াশোনা করেছি। জীবনে যা কিছু খেলা শিখেছি, সেটা কলকাতা থেকেই।’
২০২১–এ গোয়া–তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। যদিও বছর খানেকের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এ দিন রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, ‘এখানে একটাও ইনডোর টেনিস কোর্ট নেই। এত গরম, বর্ষায় এখানকার বাচ্চারা খেলতে পারে না। বাংলায় টেনিসের জন্য কোনও আলাদা স্টেডিয়াম নেই।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও এ দিন দাবি করেন লিয়েন্ডার। তাঁর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি সব কিছু খুলে বলেছি। ওঁকে বলেছি, বাংলাকে আমি বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হতে দেবো না। পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই— এটা আমার স্বপ্ন। বাংলার ছেলেমেয়ের ব্রেন ড্রেন হতে দেবো না। ক্রীড়া ও ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি, পরিকাঠামো ও ইন্ডাস্ট্রি নিয়েও অনেক পরিকল্পনা আছে আমার।’ লিয়েন্ডারের মুখে এ সব কথা শুনে তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতার কটাক্ষ, ‘প্রাক্তন টেনিস তারকা যে সমাজ নিয়ে এত কিছু ভাবেন, সেটা জানা গেল ঠিক বিধানসভা ভোটের মুখে। বিজেপির এখনও ছ’টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা বাকি। দেখা যাক কী হয়।’