• সকাল থেকে গ্যাস জ্বলছে না বাড়ি বাড়ি, দুর্গাপুর সিটি সেন্টার চত্বরে PNG পাইপ ফেটে বিপত্তি
    এই সময় | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • রবিবার সাতসকালে দুর্গাপুরে (Durgapur) শোরগোল। সিটি সেন্টার এলাকার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু সরণিতে পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস বা PNG-র লাইনে বিপত্তি। তার জেরেই পাইপ ফেটে গ্যাস বেরোতে শুরু করে। বরফের মতো সাদা কণা রাস্তার উপরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সিটি সেন্টার ফাঁড়ির পুলিশ ও দমকল কর্মীরা। আসেন গ্যাস সংস্থার আধিকারিকরাও। ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ দিকে লাইন বন্ধ রেখে কাজ করা হচ্ছে। ফলে সিটি সেন্টার এলাকায় বাড়িতে গ্যাস জ্বলছে না সকাল থেকে।

    স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম গড়াই জানান, শনিবার রাত থেকেই গ্যাসের গন্ধ বেরোচ্ছিল। কিন্তু এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে তা তাঁরা ভাবতেও পারেননি। রবিবার সকালে দেখেন একটি পাইপ ফেটে গ্যাস বেরোচ্ছে।

    LPG-এর উপরে নির্ভরতা কমাতে ও এনার্জি সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। বিভিন্ন রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও নানা জায়গায় ইতিমধ্যেই পাইপ বসানোর কাজ হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় PNG সরবরাহও করা হচ্ছে।

    দুর্গাপুরে সিটি সেন্টার এলাকায় রাস্তা থেকে কিছুটা দূরে মাটি খুঁড়ে পাইপ পাতা হয়েছে। সেই পাইপের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে সিটি সেন্টার-সহ সংলগ্ন এলাকায়। এ দিন সেই লাইনেই ঘটে বিপত্তি। যদিও গ্যাস সংস্থার কর্মীরা তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এতে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

    কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্য জায়গায়। সিটি সেন্টার এলাকার অধিকাংশ বাড়িতেই রবিবারের সকালে হেঁশেলে তালা। কারণ, বাড়িতে গ্যাস নেই। যে সমস্ত বাড়িকে LPG-সঙ্কট ছুঁতে পারেনি, এ দিনের ঘটনায় বিপাকে সেই পরিবারগুলি।

    মনোজ সিং নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘সকালেও বাড়িতে গ্যাসে চা হয়েছে। একটু পরেই গ্যাস জ্বালাতে গিয়ে দেখি আর জ্বলছে না। আমি ভাবলাম কেউ হয়ত কানেকশন বন্ধ করে দিয়েছে। গিয়ে দেখি সেটাও অন। হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করায় বলল, গ্যাসের লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে। সিটি সেন্টার জুড়েই বন্ধ। জানতে চাইলাম, কতক্ষণ সময় লাগবে? তাঁরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। তবে মোটামুটি ৩ ঘণ্টা লাগবে বলল।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, যাঁদের বাড়িতে PNG কানেকশন আছে, নিয়ম মতো তাঁদের LPG সিলিন্ডার ফেরত দিয়ে দিতে হয়েছে। ফলে ছুটির সকালে রান্নাঘর বন্ধ রেখে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

    পাইপ লাইনের কাজ দেখতে আসা কর্মী ফিরোজ খান বলেন, ‘মনে হচ্ছে কেউ জায়গাটা খুঁড়েছে। কেবলের কাজ করতে গিয়ে বা মাটি নেওয়ার জন্য হতে পারে। তাতেই পাইপ ফেটে গিয়েছে। সকালেই আমাদের কাছে খবর যায় গ্যাস লিক করছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আসি। তবে এতে ভয়ের কিছু নেই। একটা ন্যাচরাল গ্যাস।’

  • Link to this news (এই সময়)