এই সময়, ময়নাগুড়ি: একই দল। বিধানসভাও এক। অথচ মনোনয়নপত্র জমা দিলেন দুই প্রার্থী। শুক্রবারই বোঝা গিয়েছিল, ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল অত সহজে মিটছে না। এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়ের নাম প্রথমে ঘোষণা করা হলেও বিক্ষোভের জেরে ডালিম রায়কে প্রার্থী ঘোষণা করেন রাজ্য নেতৃত্ব। কৌশিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিদায়ী বিধায়ক বার বার দাবি করতে থাকেন যে তিনিই আসল প্রার্থী। এমনকী, শুক্রবার পর্যন্ত বিজেপির পতাকা নিয়েই তিনি বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করেন।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কৌশিক জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছে যান মনোনয়ন দাখিল করতে। খবর পেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই ডালিমও পৌঁছে যান জেলাশাসকের দপ্তরে। দু'জনেই এ দিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
প্রথমে কৌশিক মনোনয়ন দাখিল করে বেরিয়ে বলেন, 'আমি ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি।' দল কি সিম্বল দিয়েছে? এই প্রশ্নে কৌশিকের জবাব, 'আমি এ দিন সিম্বল জমা দিইনি। পরে দেবো।'
ডালিমও বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। বেরিয়ে এসে বলেন, 'আমিই বিজেপির প্রার্থী। দল আমায় সিম্বল দিয়েছে।' এ দিন তিনি তাঁর পদ্মফুল সিম্বল এবং বিজেপি দপ্তর থেকে দেওয়া সমস্ত নথি দেখিয়েছেন। বিষয়টিতে অস্বস্তিতে পড়লেও নির্বাচনের মুখে এখনই কৌশিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন না বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, আপাতত 'বাবা–বাছা' করে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপির নেতা সুকান্ত মজুমদার প্রার্থী হিসেবে ডালিমের নামই বলেছেন। তাঁর কথায়, 'দল যে ডালিম রায়কে সিম্বল দিয়েছে, সেটা হয়তো কৌশিক রায়ের জানা না–ও থাকতে পারে।'
তবে কি বিদায়ী বিধায়ককে বহিষ্কারের কথা ভাবছেন বিজেপি নেতৃত্ব? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, 'কৌশিককে দলের পক্ষ থেকে বোঝানো হবে। তিনি যদি বিষয়টি না–বোঝেন, তা হলে তাঁকে নিয়ে দল অন্যরকম ভাববে।'