• পিকচার আভি বাকি হ্যায়! ‘ট্রেলার’ পোস্ট করে কেজরিদের খোঁচা বিদ্রোহী রাঘবের
    এই সময় | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • চরমে উঠেছে আকচা-আকচি। এ বার তৃতীয় ভিডিয়ো পোস্ট করে আপ নেতৃত্বকে খোঁচা দিলেন দলের বিদ্রোহী সাংসদ রাঘব চাড্ডা। সমাজমাধ্যমের পোস্টে লিখলেন, 'এখন শুধু ট্রেলার। পিকচার আভি বাকি হ্যায়!' ঘটনাচক্রে, রাঘব যে ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন, সেটির দৈর্ঘ্য ২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড। সাধারণত যে কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির ট্রেলারও এই মাপেরই হয়ে থাকে।

    গত বৃহস্পতিবার রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন আপ নেতৃত্ব। শুধু তা-ই নয়, ভাষণের জন্য তাঁকে দলের কোটা থেকে সময় দেওয়ারও প্রয়োজন নেই বলে রাজ্যসভার সচিবালয়কে জানিয়েছেন তাঁরা। এর পর শুক্রবার তা নিয়ে মুখ খোলেন রাঘব। ভিডিয়োবার্তায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, 'আমায় কেন চুপ করানো হচ্ছে? আমি তো বরাবর সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়েই কথা বলেছি।' রাঘবের এই বিবৃতির পরেই একের পর এক আপ নেতা তাঁকে পাল্টা আক্রমণ করা শুরু করেন। রাঘবও তার জবাব দেন শনিবার। এর পর রবিবার আবার কেজরিদের নিশানা করলেন আপ সাংসদ।

    আপ নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় যাওয়া সত্ত্বেও সে রাজ্যের বিষয় নিয়ে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায় না। তৃতীয় ভিডিয়োয় কেজরিদের মূলত এই অভিযোগের জবাব দিলেন রাঘব। সংসদে তাঁর দেওয়া ভাষণের ছোট ছোট ফুটেজ কেটে কেটে প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিয়োটি তৈরি করেছেন তিনি। ভাষণের যে যে ফুটেজ তিনি ব্যবহার করেছেন, তার সবক'টিতেই তাঁকে পাঞ্জাবের বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে রাজ্যের কৃষকদের নিয়ে কথা বলতে, কখনও আবার জলসঙ্কট, ট্রেন পরিষেবায় অব্যবস্থা নিয়ে। এক্স হ্যান্ডলের পোস্টে রাঘব লিখেছেন, 'আমার কাছে পাঞ্জাব শুধু ভাষণের বিষয়বস্তু নয়। এটা আমার ঘর, আমার কর্তব্য, আমার মাটি, আমার হৃদয়।'

    শনিবারের ভিডিয়োবার্তাতেও আপ নেতৃত্বের একাধিক অভিযোগের জবাব দিয়েছিলেন রাঘব। বলেছিলেন, 'সংসদে আমায় কথা বলতে দিতে চায় না ওরা। আমাদের বিরুদ্ধে ওদের মূলত তিনটি অভিযোগ রয়েছে। এই তিনটি অভিযোগেরই জবাব আমি দেব।' রাঘব জানান, তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে তিনি কখনও বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে ওয়াকআউট করেন না। কক্ষেই বসে থাকেন। এই অভিযোগের জবাবে রাঘব বলেন, 'এটা সর্বৈব মিথ্যা। আমাকে একটা ঘটনা দেখানো হোক, যেখানে আমি বিরোধী সাংসদের সঙ্গে ওয়াকআউট করিনি। ক্যামেরা আছে সংসদে। দেখে নেওয়া হোক। তা হলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।'

    এসআইআর-বিতর্কের আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রস্তাবে রাঘব সই করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে আপ সাংসদ বলেন, 'এটাও মিথ্যা। কেউ আমাকে পিটিশনে সই করতে বলেননি। রাজ্যসভার আপের ১০ জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬-৭ জনই সই করেননি। আর দোষ শুধু আমার!' আপ নেতাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে কখনওই সুর চড়ান না রাঘব। তাঁর সুর বরাবর নরমই থেকে। এর প্রেক্ষিতে রাঘব বলেন, 'আমি একটা বিষয় খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই। সংসদে বিশৃঙ্খলা, চিৎকার-চেঁচামেচি, মাইক ভাঙা বা কাউকে হেনস্থার জায়গা নয়। আমি ওখানে মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে গিয়েছি এবং তা-ই করি। জিএসটি, আয়কর, দিল্লির বায়ুদূষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য রেলযাত্রীদের দুর্দশা, সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি।'

  • Link to this news (এই সময়)