এই সময়, বর্ধমান: আগে পাড়ায় পাড়ায় মাইক বেঁধে বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট নেতাদের বক্তব্য শোনার জন্য মঞ্চ বাঁধা হতো। পরে সেখানে নেতারা এসে বক্তব্য রাখতেন। পরবর্তী সময়ে সেই পাড়ার সভাই এলাকার কোনও বড় মাঠ বা ময়দানে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে জনসভার আকার দেওয়া হয়েছিল। সব রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য থাকত, একসঙ্গে অনেক মানুষ বসে যাতে নেতৃত্বের বক্তব্য শুনতে পারেন, তাই এই ব্যবস্থা।
ধীরে ধীরে সেই জায়গা দখল করেছে প্রযুক্তি। ক্যাসেট অথবা সিডিতে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য রেকর্ড করে তা এলাকায় মাইকে প্রচার করা হতো। ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এই প্রচারেও থাবা বসিয়েছে ডিজিটাল টেকনোলজি। এ বার ভিডিয়ো করে করা হচ্ছে প্রচার। গাড়িতে ডিজিটাল স্ক্রিন বসিয়ে চালানো হচ্ছে নেতা–নেত্রীদের বক্তব্যের সারাংশ।
অনেকেই সেই বক্তব্য দাঁড়িয়ে দেখছেন, শুনছেনও। নিজেদের মধ্যে তা নিয়ে মতামত আদানপ্রদান করছেন। ডিজিটাল স্ক্রিনে চলা নেতা বা নেত্রীর কথা কেউ যেমন ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিচ্ছেন, কেউ আবার মিথ্যা বলে হাসাহাসিও করছেন। বর্ধমান–২ ব্লকের বেশ কিছু গ্রামে দেখা গেল, বিজেপি ও তৃণমূলের ডিজিটাল প্রচার। গাড়ির সামনে নাতিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অর্পণা সাহা বলছিলেন, ‘ব্যাপারটা অনেকটা সিনেমার মতো, দেখতে ভালোই লাগছে। আজ তৃণমূলের বক্তব্য দেখানো হচ্ছে। কিছুদিন আগে বিজেপিও এমন প্রচার করেছিল। পর্দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে নরেন্দ্র মোদী, সবাইকে দেখতে পাচ্ছি।’
গ্রামের বাসিন্দা সুনীল দত্ত বিকেলে হাঁটতে বেড়িয়ে গাড়ির উপরে ডিজিটাল স্ক্রিন দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বলে উঠলেন, ‘বয়সের কারণে সভায় যেতে পারি না। আমি সিপিএমের সমর্থক। তবে এখানে দাঁড়িয়ে মমতা-অভিষেকের কথাগুলো শুনলাম। বলছে তো ভালোই, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়!’ আর এক বাসিন্দা মহাদেব ঘোষের মন্তব্য, ‘ওঁরা বলছেন ঢিভিতে, আর আমরা শুনছি। সবার কথা শুনে খুব হাসিও পাচ্ছে। এ ভাবেও মিথ্যা বলা যায়! একে অন্যের নামে নামে যে ভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে, তা মিটতেই তো এ বারের ভোট পার হয়ে যাবে।’