দিল্লি হাইকোর্টে ভুয়ো বোমা হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টকেও একাধিকবার একই ধরনের মেল পাঠিয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত শ্রীনিবাস লুইস গত এক বছরে প্রায় ১,৫০০টি হুমকির ইমেল পাঠান। এর মধ্যে ৭টি সুপ্রিম কোর্টে এবং ৫০টিরও বেশি দিল্লি হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছিল।
পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ মেলের ভাষা প্রায় একই ছিল। লুইস মূলত হাইকোর্টগুলিকেই নিশানা করতেন। অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান, যেমন স্কুল বা সরকারি দপ্তরে সে কখনও হুমকি মেল পাঠাননি।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত একসময় আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। বিচারব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ থেকেই সে এই কাজ তিনি করতেন বলে দাবি। আদালতে বোমা রাখা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি মেল পাঠাতেন। যাতে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং আদালতের কাজ ব্যাহত হয়।
গত ২৭ মার্চ মাইশুরুর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ৩০ মার্চ আদালত তাকে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। পরে আরও তদন্তের জন্য তাঁকে নিজের শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন।
পুলিশ তাঁর কাছ থেকে দু’টি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আরও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দিল্লি, মুম্বই, গুজরাট, কর্ণাটক-সহ একাধিক হাইকোর্টে তিনি মেল পাঠিয়েছিলেন। বিদেশের আদালতেও একই ধরনের মেল গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের মেল পাঠাতে VPN ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে VPN ব্যবহার না করায় তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।