• নাসিক কাণ্ড: সন্ধ্যায় স্কুলের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু সেই ৬ শিশুর!
    এই সময় | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • সন্ধ্যায় স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই গিয়েছিল ছয় শিশু। অংশ নিয়েছিল নৃত্যানুষ্ঠানেও। তার পর রাতে গাড়ি করে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনা। বেঘোরে প্রাণ গেল সেই ছ'জনেরই! শুক্রবার রাতে মহারাষ্ট্রের নাসিকের এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে গাড়িতে থাকা আরও তিন জনের।

    মেয়ে রাখি এবং তার বন্ধুদের নিয়ে স্কুলের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সুনীল। সঙ্গে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী রেশমাও। দুর্ঘটনায় তাঁদের গোটা পরিবারেরই প্রাণ গিয়েছে। রাখি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ক্লাসের টপারও। স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত হয়েছে সে। এ ছাড়াও সুনীলের গাড়িতে ছিল শ্রদ্ধা (সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী), শ্রাবণী (পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী), সৃষ্টি (অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী), শ্রেয়াস (পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র) আর সমৃদ্ধি (প্রথম শ্রেণির ছাত্রী)। তারা সকলেই দিন্দোরির জনতা ইংলিশ স্কুলের পড়ুয়া।

    নিহতদের পরিবার জানিয়েছে, স্কুলের অনুষ্ঠানে লাই ভারি ছবির 'মউলি মউলি' গানে নেচেছিল বাচ্চারা। নৃত্য পরিবেশন করেছিল একটি দেশাত্মবোধক গানেও। রাস্তায় যানজটে আটকে পড়ার ভয়ে অনুষ্ঠানের পর তাদের নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়েও গিয়েছিলেন সুনীল। তার পরেই রাত ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। অন্ধকারে নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে ৪০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে যায় সুনীলের গাড়ি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, কুয়োটি দীর্ঘদিন ধরেই খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল। প্রশাসনকে এ বিষয়ে বার বার অবগত করা সত্ত্বেও সুরাহা হয়নি। এর আগে এক বাইক আরোহীও কুয়োয় পড়ে গিয়েছিলেন। স্থানীয়েরা জানান, কুয়োটি যে জমিতে রয়েছে, সেই জমির মালিক এবং নগর পঞ্চায়েতের মধ্যে বিবাদের জেরেই সেটি খোলা ফেলে রাখা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে কুয়োর পাশে একটি কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করে প্রশাসন। তাতে রাস্তা এবং কুয়োর উচ্চতা সমান হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারে দূর থেকে আর কুয়ো দেখা যায় না। এই কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে।

    দিন্দোরি থানার এক আধিকারিক বলেন, 'জমির মালিক এবং নগর পঞ্চায়েতের বিবাদের কারণেই কুয়োটি এত দিন ধরে খোলা পড়ে ছিল। ফলে এই দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবীই ছিল এক রকম ভাবে। বাইরের কেউ এই রাস্তা দিয়ে গেলে তাঁর পক্ষে বোঝা সম্ভবই নয় যে, ওখানে একটা কুয়ো আছে।'

  • Link to this news (এই সময়)