দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া
'তোমার প্রতিশ্রুতিই মানুষের কাছে তোমার মুখের কথার মূল্য নির্ধারণ করবে'-রবার্ট ফ্রস্ট হায়, এটা যদি ভোট চাইতে আসা নানা দলের নেতার বুঝতেন! আক্ষেপ পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া আনাজ ব্যবসায়ীদের। রাজ্যে সরকার বদলের পরে এগারো বছরেও চালু হয়নি পাঁশকুড়া কৃষক বাজার। হাতে গোনা কয়েকটি স্টল বিলি হলেও সেখানে বেচা কেনা শুরু হয়নি এখনও। বন্ধ কৃষক বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল। সন্ধ্যে হলেই সেখানে জমে ওঠে যায় মদ, হেরোইনের আসর। মাদক সেবনের পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা অবাধে লুটপাট চালায় কৃষক বাজারে। সরকারি সম্পত্তি লুট হচ্ছে দেখেও মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ।
অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। কেননা নানা সময়ে ভোট এলে তার সঙ্গে এসেছিল প্রতিশ্রুতিও। ভোট চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশ্রুতিও সেই পথে পা বাড়িয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের পর যানজটমুক্ত পাঁশকুড়া গড়ার লক্ষ্যে পাঁশকুড়া স্টেশনের ফল ও আনাজ বাজারকে স্টেশনের অদূরে পাঁশকুড়া কৃষক বাজারে সরাতে উদ্যোগী হয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি।
২০১৫-র অক্টোবর মাসে পাঁশকুড়া কৃষক বাজার উদ্বোধনের পর ৩৬০ জন কৃষক ও আনাজ ব্যবসায়ী স্টলের জন্য অগ্রিম বুকিং করেন। অগ্রিম টাকা দিয়েও সময়মতো স্টল তৈরি না হওয়ায় কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। গত বছর সরকারি উদ্যোগে পাঁশকুড়া কৃষক বাজারে প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে ১৭২টি স্টল তৈরি করা হয়।
১৬ জন ব্যবসায়ী স্টল নিলেও বাকিগুলি এখনও বিলি হয়নি। ওই ১৬ জনের কেউই কৃষক বাজারে ব্যবসা করছেন না বলে অভিযোগ। পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার থেকে পাঁশকুড়া কৃষক বাজার যেতে পাঁশকুড়া লেভেল ক্রসিং পার হতে হয়। উড়ালপুল না থাকায় পাঁশকুড়া লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে যানজট চলে। যে কারণে কৃষক বাজারের প্রতি আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের।
স্টলের পাশাপাশি পাঁশকুড়া কৃষক বাজারে রয়েছে দু'টি বড় শেড। একটি গুদাম। শেডের মধ্যে সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল তৈরি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্ধ স্টলগুলি দুষ্কৃতীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। শাটারের তালা ভেঙে স্টলের দখল নিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
সন্ধ্যা হলেই কৃষক বাজারে নেশা করার জন্য জড়ো হয় দুষ্কৃতীরা। কৃষক বাজারের বিদ্যুতের তার থেকে জলের পাইপ, পথবাতি সব খুলে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। গত বছর কৃষক বাজারের পাশে নবনির্মিত সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে অবাধে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। বিষয়টি নিয়ে সরব হয় কৃষক সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনের সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, 'পাঁশকুড়া কৃষক বাজার চালু করতে সরকারি উদ্যোগ নেই। কৃষক বাজার চালু হলে এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। অবিলম্বে এটা চালু করা হোক।'
পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি বলেন, 'তৃণমূলের নেতারা পাঁশকুড়া কৃষক বাজার তৈরির সময় ঠিকাদারি করে কাটমানি খেয়েছেন। কৃষক বাজার কৃষকদের স্বার্থে তৈরি হয়নি। তৃণমূলের পনেরো বছর রাজত্বে একটা কৃষক বাজার চালু হলো না। এর থেকে চরম ব্যর্থতা আর কী হতে পারে?' তৃণমূল প্রার্থী সিরাজ খান বলেন, 'কৃষক বাজার কেন চালু হয়নি, বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি জিতলে অবশ্যই এই বাজার চালু করতে উদ্যোগী হব।'