আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাইফেলের গুলিতে মৃত্যু হল এক বিএসএফ জওয়ানের। আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যার আগে ক্যাম্পে কর্তব্যরত অবস্থায় নিজের বন্দুক থেকে গুলি বেরিয়ে জখম হন ওই বিএসএফ জওয়ান। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে জানান। ঘটনাটি ঘটেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মুরুটিয়ার রানিনগর ক্যাম্পে।
সূত্রে খবর, বিএসএফের ১১ নম্বর ব্যাটেলিয়ানে কর্মরত ওই জওয়ানের নাম বৈভব আন্না মণ্ডল (৩৪), বাড়ি মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার খাঁওকি এলাকায়। এদিন তিনি ক্যাম্প পাহারার সেন্টির দায়িত্বে ছিলেন। এমন সময় হাতে থাকা রাইফেলের নল থেকে চোয়ালে গুলি লাগে। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে মুরুটিয়া থানার পুলিশ।
গত শুক্রবার দিঘায় এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। ভোট ডিউটিতে এসে সিআরপিএফ জওয়ানের আত্মহত্যা। সেদিন ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা বিদ্যাভবন হাই স্কুলের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সিআরপিএফ জওয়ান বীরেন্দ্র সিং (৪৩)।
গুলির শব্দে ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য জওয়ানরা তড়িঘড়ি ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে ক্যাম্পের মেডিক্যাল টিম প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করে, তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
জানা গিয়েছে, মৃত জওয়ান বীরেন্দ্র সিং সিআরপিএফের ১৩১ আলফা ইউনিটের সদস্য ছিলেন এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ভোট ডিউটিতে কয়েকদিন আগেই এলাকায় এসেছিলেন। তাঁর বাড়ি হরিয়ানায়। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মেলামেশা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ফলে এই আকস্মিক ঘটনার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানার পুলিশ এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ইতিমধ্যেই দেহটি কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত কোনও কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে সিআরপিএফ কর্তৃপক্ষ। ভোটের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।