আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রার্থী তালিকায় এবার চমক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একযোগে বহু বিধায়কের নাম বাদ পড়েছে ২৬-এর ভোটের প্রার্থী তালিকা থেকে। বেশকিছু জায়গায় তাঁরা ক্ষোভ দেখিয়েছেন, আবার শীর্ষ নেতৃত্বের কথা শুনে নিমরাজি হয়ে প্রার্থীদের সমর্থনে বক্তব্যও রাখছেন। তবে ফরাক্কা নিয়ে আলোচনা বিস্তর।
পাঁচ বছর যেতে না যেতেই ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে এবছর প্রার্থী বদল করেছে রাজ্যের শাসক দল। মনিরুলের পরিবর্তে এবার ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি আমিরুল ইসলাম। টিকিট না পেয়ে মনিরুল বিদ্রোহী হয়েছেন শুরু থেকেই। এদিন সামশেরগঞ্জের জনসভা থেকে নাম না করেই মনিরুলকে বড় বার্তা মমতার। রবিবার সামশেরগঞ্জের মহম্মদ নুর আলম এবং ফরাক্কার প্রার্থী মহম্মদ আমিরুল ইসলামের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা করেন মমতা।
বললেন, 'ফরাক্কায় আমরা যাকে টিকিট দিইনি, শুনছি তিনি নাকি দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে আমি আবেদন করব তিনি দলের স্বার্থে প্রত্যাহার করবেন, যদি না করেন আমি চেয়ারম্যানকে বলে যাচ্ছি, তাহলে তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করবেন।' সঙ্গেই মমতা সাফ বার্তা দিলেন আরও দুটি বিষয়ে। একদিকে ভোটের মুখে স্পষ্ট করলেন দলে কর্মীদের গুরুত্বের কথা এবং দলের কাছে নেতার গুরুত্বের কথা। মনিরুলের নাম না করেই ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, 'আমার দরকার নেই। আমার আমিরুলকে দরকার।'
অন্যদিকে বার্তা দিলেন, নজর থাকছে, কে দলের পাশে রয়েছেন কতটা নিঃস্বার্থভাবে। কাজ করবেন যাঁরা, দল পুরষ্কার দেবে তাঁদেরই। মমতা-অভিষেকের সাম্প্রতিক সময়ের নানা মন্তব্যে এই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এদিন আরও স্পষ্ট করে মমতা বললেন, 'দলে থেকে যাঁরা দলের বিরোধিতা করেন, টিকিট দিলে ভাল...'তারপরেই মমতা মনে করালেন কর্মীদের কথা। অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, যাঁরা দলের কর্মী, দিনরাতের পরিশ্রম যাঁদের, তাঁদের সকলে টিকিট পান না। কিন্তু দলের 'সম্পদ' হয়ে থাকেন দলের সঙ্গেই। বললেন, 'যে কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে, সকলেই টিকিট পায়, যারা দলের সম্পদ, বুথে বসে, এজেন্ট হয়ে বসে, তারা কি সকলেই টিকিট পায়?' মনে করালেন, 'যে কাজ করবেন, সে টিকিট পাবে।। যে মানুষের সাথে থাকবে, সে টিকিট পাবে।' কিছুক্ষেত্রে বয়স ফ্যাক্টর হতে পারে, সেকথাও বলেন মমতা। বললেন, 'যাঁরা সম্মানের সঙ্গে দল করবেন, তাঁদের সসম্মানে সেই জায়গা ফিরিয়েদেব। কিন্তু যাঁরা দলকে সসম্মান করবেন, তাঁদের ক্ষমা-রেয়াত করা আমাদের কাজ নয়। তাহলে মানুষ আমাদের ক্ষমা করবেন না।' দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বললেন, 'নির্বাচন একটা রাজনৈতিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আমি যদি যোদ্ধা হই, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আমার সহযোদ্ধা।'
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, তৃণমূলের হয়ে টিকিট না পেয়ে, এবার বিদায়ী বিধায়ক মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কংগ্রেসের হয়ে। তার পরেই নাম না করে, তাঁকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি।