‘মহিলা বিচারক ছিলেন। সঙ্গে বিএসএফও ছিল। বিচারকের গাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। গাড়িচালকের মাথায় মোটা কাঠ দিয়ে মারা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় গাড়ি কাচ…’ — NIA আধিকারিকদের কাছে বুধবার রাতের ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন কালিয়াচকে ‘বন্দি’ থাকা এক বিচারকের গাড়িচালক রামপ্রসাদ মণ্ডল। রবিবার মালদা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের বেডে শুয়ে NIA আধিকারিকদের এই বয়ান দেন তিনি। বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে রামপ্রসাদকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করিয়ে নিয়ে যায় NIA-এর টিম।
মালদা হাসপাতালে বিচারকের গাড়ির চালক যে বেডে ছিলেন, তার পাশের বেডের রোগী তারিকুল আলম বলেন, ‘ওর কাছে সে দিনের ঘটনার পুরো বিবরণ জানতে চেয়েছিলেন NIA আধিকারিকরা। সে দিন প্রায় ৭০ কিমি/ঘণ্টা বেগে ও গাড়ি চালাচ্ছিল। আমলিতলা বলে একটা জায়গার কাছে গাড়ি ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। ওর মাথায় মেরেছে। ১৬টা সেলাই পড়েছে।’ বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পরে ওকে NIA অফিসাররা নিয়ে চলে যান।
এ দিন কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকে দফায় দফায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসাররা। NIA সূত্রে খবর, রবিবারই তাঁরা কলকাতায় ফিরে যাবেন। কারণ সোমবার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা করবে NIA। ইতিমধ্যে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি টিম বুধবার রাতে আক্রান্ত এক বিচারকের বাড়ি বালিগঞ্জেও যায়। সেখানে আক্রান্ত বিচারকের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ঘটনার আগে এবং পরে কী হয়েছিল ? কত লোকের জমায়েত ছিল ? পাইলটে করে যখন তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন রাস্তায় তাঁদের কোন কোন জায়গায় আটকানো হয়েছিল? সে খোঁজ নেওয়া হয়।
কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকে এ দিন সকালেই ডেকে পাঠানো হয় মালদা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্র সরকারকে। প্রশাসনের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সংগ্রহের কারণেই অতিরিক্ত জেলা শাসকের তলব বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত NIA প্রায় ১৫০ জনের বেশি মানুষকে ডেকে পাঠিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।