তিনি পেশায় গৃহ পরিচারিকা। কতই বা মাইনে পান? অথচ তাঁর জীবনযাপন হার মানাবে বলিউড তারকাদেরও! বিহারের কিষাণগঞ্জের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বা SDPO গৌতম কুমারের বাড়িতে সম্প্রতি হানা দিয়েছিলেন বিহার পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা বা EOU-এর অফিসাররা। তাতেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ওই SDPO-র সরকারি আবাসের পরিচারিকা, পারো।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিচারিকা পারোর আদি বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মালদায়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মালদায় উত্তর দিনাজপুরের সীমানা লাগোয়া এক এলাকায় তাঁর প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে। শুধু তাই নয়, সামান্য পরিচারিকা হয়েও তিনি প্রতিদিন কাজে আসতেন মাহিন্দ্রা ‘থার’ গাড়িতে চড়ে। যার দাম প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা।
সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন পারো বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা। বস্তুত তাঁর বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিয়ো এবং রিলসেই তাঁর এই বিপুল সম্পত্তির আভাস পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
পারো মূলত হাজার হাজার টাকার নগদ হাতে নিয়ে পোজ় দিতেন রিলস বা ভিডিয়োয়। দেড় লক্ষ টাকা নগদ হাতে নিয়েও একটি রিলস বানিয়েছিলেন পারো। এ ছাড়া, অভিযুক্ত DSP-র উপহার দেওয়া একটি দামি ‘বুলেট’ বাইক নিয়েও রিলস রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া, ওই পরিচারিকার বিপুল সোনার গয়নারও হদিস মিলেছে বলে তদন্তকারীদের এক সূত্রের দাবি।
তবে তদন্ত ও তল্লাশি শুরু হতেই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট লক করে সপরিবারে গা ঢাকা দিয়েছেন পারো। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
গত ৩১ মার্চ DSP গৌতম কুমারের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের তদন্তে কিষাণগঞ্জ, পাটনা, পূর্ণিয়া ও শিলিগুড়ি-সহ একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়েছিল EOU।
এই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আয়ের তুলনায় তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। শিলিগুড়িতে তাঁর একাধিক চা বাগান এবং বিভিন্ন মেট্রো শহরে একাধিক ফ্ল্যাটের হদিস মিলেছে।
আর এই তদন্ত করতে গিয়েই তদন্তকারীদের নজর পড়েছে তাঁর পরিচারিকা, পারোর সম্পত্তির উপরে। তাঁরা খতিয়ে দেখছেন, SDPO-র কালো টাকা সাদা করতেই কি পরিচারিকার নামে এই বিপুল সম্পত্তি কেনা হয়েছিল? আগামী ৬ এপ্রিল SDPO গৌতম কুমার ও তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে।