জীবদ্দশাতেই তিনি ছিলেন কিংবদন্তি। ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের (Dr Bidhan Chandra Roy) সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারণ করা হতো তাঁর নাম। অবশেষে রবিবার সন্ধ্যায় বালিগঞ্জ প্লেসের (Ballygunge Place) বাড়িতে প্রয়াত হলেন চিকিৎসক মণি ছেত্রী (Dr Mani Chetri)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। পরিবার সূত্রে খবর, দিন পনেরো আগে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। হাসপাতাল থেকে ফেরার পরে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন।
১৯২০ সালের ২৩ মে পরাধীন ভারতের দার্জিলিংয়ে জন্ম মণি ছেত্রীর। শৈশব কেটেছে পাহাড়েই। প্রাথমিক শিক্ষা দার্জিলিংয়েরই একটি স্কুলে। ১৯৪৪ সালে MBBS পাশ করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। তবে কর্মজীবনের বেশিভাগ সময়টা কাটিয়েছেন দেশেই। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবেই মণির জগৎ জোড়া খ্যাতি। এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তাও হয়েছিলেন তিনি। সামলেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার দায়িত্বও। তবে প্রশাসনিক কাজের মধ্যেও রোগী দেখা ছাড়েননি কোনও দিন।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বহু পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৪ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৮২ সালে সরকারি চাকরি থেকে অসবর নেওয়ার পরেও নিয়মিত রোগী দেখতেন। কয়েক বছর আগে ডিমনেশিয়ায় আক্রান্ত হন। তাতেই স্মৃতিশক্তি হারান। রোগী দেখাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। চিকিৎসকের পরিবার সূত্রে খবর, মাত্র বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসা করতেন তিনি।
চলতি বছরেই বাড়িতে আচমকা পড়ে যান। তখনই মাথায় চোট পান। ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এ দিন সন্ধ্যায় বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চিকিৎসক মণি ছেত্রী।