এই সময়: এগিয়ে আসছে ভোটের দিন। যোগ্য সঙ্গত করছে আবহাওয়ার পারদও। রবিবার কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অনেকটা এলাকা। মার্চেও বেশ কিছুদিন বাংলায় দিনের তাপমাত্রার লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে নাজেহাল হয়েছেন মানুষ। ২০২১-২০২৫ পর্যন্ত সময়সীমায় এপ্রিলে বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকে, সে সংক্রান্ত পরিসংখ্যান থেকে এ বছরের পরিস্থিতির কিছুটা আঁচ পাওয়ার চেষ্টা করছেন আবহবিদরা।
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে এপ্রিলে বাংলার আবহাওয়া আরও বেশি গরম, আর্দ্র এবং অনিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি বছরই বাংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘর পার করেছে। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ ছিল চরমতম। এই দু'বছরের মধ্যে ২০২৩-এ পাঁচ বার এবং ২০২৪-এ ন'বার ৪০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছেছিল কলকাতা। ২০২৪-কে আবার ইতিহাসের উষ্ণতম বছর বলে গণ্য করা হচ্ছে। সে বছর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। শুধু '২৪ নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতেই এপ্রিলের বৃষ্টিপাত এলোমেলো হয়েছে বলে আবহবিদদের পর্যবেক্ষণ। বেড়েছে প্রবল ঝড় এবং বজ্রপাতও।
এই আবহে বাংলায় ভোট পরিচালনা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটদানের হারের উপরে আবহাওয়ার বড়সড় প্রভাব থাকতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দিনের বেলা অতি দ্রুত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা, পশ্চিম-বাংলার জেলাগুলিতে শুকনো গরম এবং কলকাতা-সহ দক্ষিণের উপকূলবর্তী এলাকায় গলদঘর্ম অবস্থা ভোটদানের হারকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিকেলের দিকে আবার যখন-তখন কালবৈশাখীর আশঙ্কা। কাজেই নির্বাচনের বাক্সে প্রকৃতির মতিগতি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। মৌসম ভবনের সর্বশেষ পূর্বাভাস নির্বাচনের আগে বাংলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে দু'দফায় ভোটের (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) আগের দিন এমন কিছু ঘটলে ভোটের দিন আবহাওয়া কিছুটা সহনীয় থাকবে বলে আশা করাই যায়।
যে আশায় সিলমোহর দিচ্ছেন আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা 'স্কাইমেট ওয়েদার'-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেশ পালাওয়াতও। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি-র জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথিউ কল বলেন, 'ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগর দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠায় প্রাক-বর্ষা বৃষ্টিপাতের ধরন বদলেছে। তাই গত পাঁচ বছরে প্রতি এপ্রিলে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থেকেছে।'