আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনায় এবার এনআইএ-এর স্ক্যানারে সুজাপুর কেন্দ্রের মিম প্রার্থী রেজাউল করিম। রেজাউল করিমকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করল এনআইএ। মোফাক্কেরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কীরকম ছিল সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে চাইছেন গোয়েন্দারা। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে আবারও রেজাউল করিম-কে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলে জানা গিয়েছে৷
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামের সঙ্গে রেজাউলের যোগসূত্রটি খতিয়ে দেখা। মোফাক্কেরুলের সঙ্গে রেজাউল করিমের সখ্যতা ঠিক কতটা গভীর ছিল এবং তাঁদের মধ্যে কোনও আর্থিক বা কৌশলগত লেনদেন হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
ইতিমধ্যেই রেজাউলকে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁর বয়ানে কিছু অসঙ্গতি মিলেছে।
এনআইএ সূত্রে খবর, প্রয়োজনে রেজাউলকে আবারও ডেকে পাঠানো হতে পারে। মোথাবাড়ি কাণ্ডের নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, রেজাউলের বয়ান থেকেই তার সূত্র মেলা সম্ভব বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
মোথাবাড়ির ঘটনায় মোফাক্কেরুলের গ্রেপ্তারির পর থেকেই জেলা জুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল। এবার সরাসরি এক বিধানসভা পদপ্রার্থীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তি বেড়েছে মিম শিবিরের। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, নেহাতই পরিচিতি নাকি এই ঘটনার শিকড় আরও গভীরে বিস্তৃত।
উল্লেখ্য, মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় পুলিশের জালে মূল প্ররোচনাকারী আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম। প্রথমে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে পাকড়াও করে সিআইডি। পরে এডিজি উত্তরবঙ্গ তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার মোফাক্কারুলের এক সহযোগী এক্রামুল বাগানি। মোথাবাড়িকাণ্ডে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে মোফাক্কারুলের ভিডিও। কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে অশান্তির সময় গাড়ির মাথায় উঠে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে মোফাক্কারুলকে।
পুলিশের দাবি, মোফাক্কারুলই ঘটনার মূল প্ররোচনাকারী। পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসের সামনে উস্কানিমূলক ভাষণ দেন মোফাক্কারুল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাগডোগরা বিমানবন্দরে ধৃত সহযোগী এক্রামুলও। পুলিশ জানিয়েছে, ধরপাকড় শুরু হতেই ২ জনেই বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন। আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানাতেই ৩টি মামলা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারেই, মালদহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেয় শীর্ষ আদালত। মালদহের দফায় দফায় বিক্ষোভের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদহ পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদহের ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে জানানো হয়।
উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই, মালদহ পৌঁছন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদে দু'টি জনসভা করেই, মালদহে পৌঁছন মমতা। বৈষ্ণবনগরে গিয়ে মমতা বললেন, 'মালদহে কংগ্রেসিদের অত্যাচারে গণ্ডগোল হল। আমি বলছি ক্ষোভ আছে মানুষের। আমারও ক্ষোভ আছে, সেই আক্রণেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছি। কী দরকার ছিল এই রায় বেরনোর পর জাজেদের আটকে রাখা? যাঁরা করেছেন, তাঁদের একটাকেও যেন ছাড়া না হয়।'
তৃণমূল সুপ্রিমো সাফ বলেন, 'এটা আমাদের দলের কোনও পরিকল্পনা নয়। আমরা লড়ে নেব শান্তিতে। আমরা দাঙ্গার পক্ষে নই।'