অভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কাটোয়া
ভোটের প্রচারে নিজেদের বক্তব্য সহজ ভাবে তুলে ধরতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সহজ পাঠ'–কে হাতিয়ার করেছে সিপিএম।
'ভোটের সহজ পাঠ' নাম দিয়ে, সেই বইয়ের ছড়াগুলির প্যারোডি তৈরি করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে ঝড় তুলতে এই 'নকল' সহজ পাঠ ব্যবহারও হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল এবং বিজেপি। তাদের বক্তব্য, এ ভাবে সহজ পাঠ–কে বিকৃত করা যায় না। বাম শিবিরের পাল্টা যুক্তি, এটা বিকৃতি নয়, অনুকরণ মাত্র।
'ছোট খোকা বলে অ আ, শেখেনি সে কথা কওয়া' অথবা 'ই, ঈ, বাটি হাতে দে দই।' রবি ঠাকুরের সহজ পাঠের এই সব ছড়ার আমূল পরিবর্তন হয়েছে ভোটের বাজারে। সরকার পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে একদা শিক্ষায় মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের জোরদার সমর্থক বামেরা সহজ পাঠের রাতারাতি বদল ঘটিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা এখন শেখাচ্ছেন 'ভোটের সহজ পাঠ'।
কি লেখা আছে এই নকল সহজ পাঠে? লেখা হয়েছে, 'ছোট খোকা বলে অ আ, হক তার বড় হলে চাকরি পাওয়া' অথবা 'মুঠো হাতে এ ঐ, চাকরি আনবই।' মূলত দলীয় স্লোগানগুলি সহজ পাঠের ছড়ার নকল করে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকী, সহজ পাঠের প্রচ্ছদেরও প্রায় হুবহু নকল করা হয়েছে। শুধু প্রচ্ছদে জায়গা পেয়েছে কাস্তে হাতুড়ির ছবি, আর রচয়িতার জায়গায় এসেছে সিপিআই(এম) পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির নাম। ছবিগুলিও ব্যবহার করা হয়েছে সহজ পাঠের আদলে।
'অঞ্জনা নদী তীরে চন্দনী গাঁয়' ছড়াটিকে বদলে তৃণমূলকে বিঁধে লেখা হয়েছে, 'হুগলি নদী তীরে কালীঘাট গাঁয়, সব কিছু বেচে কিনে পিসিমণি খায়।' বিজেপিকে আক্রমণ করে লেখা হয়েছে, 'আত্মীয় আছে এক যমুনার তীরে, সেও বেচে ব্যাঙ্ক, রেল আদনির ভিড়ে।' এই প্রচার পুস্তিকা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনেকেই মনে করছেন, রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠের এই বিকৃতি সংস্কৃতি বিরোধী। তৃণমূল এবং বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, কার্ল মার্ক্সকে বাদ দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে ব্যবহার করে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছে বাম। তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা সঞ্জয় সাহা বলেন, 'এটা ঠিক কাজ করেনি৷ ধিক্কার জানাই৷ নতুন প্রজন্মের কাছে সহজ পাঠ নিয়ে ভুল বার্তা যাবে৷ বাঙালীর সংস্কৃতিকে অপমান করেছে ওরা।' তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি তথা কাটোয়ার প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, 'বামেরা এখন নীচে নেমে গিয়েছে৷ তা না–হলে যে সহজ পাঠ প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার বই হিসাবে বিবেচিত হয়, তাকে কেউ এ ভাবে বিকৃত করতে পারে! ওরা তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেই অপমান করেছে৷'
কাটোয়ার বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, 'বাম এখন দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে৷ তাই কী করবে, ভেবে পাচ্ছে না৷' যদিও সিপিএমের জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেনের যুক্তি, 'বিকৃত করে তৃণমূল, আমরা নই৷ সহজ পাঠের সহজ ভাষার ছড়াগুলির অনুকরণে আমরা প্রচার করেছি মাত্র৷ এটাকে বিকৃতি বলে না।' প্রসঙ্গত, কাটোয়ার একটি দেওয়ালে কুমোর পাড়ার গোরুর গাড়ির নকল করে দেওয়াল লিখতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলকেও!