এই সময়, বনগাঁ: বড় জনসভা কিংবা প্রচুর সংখ্যক কর্মী নিয়ে র্যালি করার আগে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপির শক্ত ঘাঁটিগুলিকে চিহ্নিত করে বুথ স্তরের কর্মীদের নিয়ে বৈঠকের পাশাপাশি স্থানীয়দের নিয়ে চাটাই বৈঠকের উপরেই বেশি জোর দিচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। গেরুয়া শিবিরের ওই ঘাঁটিগুলিতেই এ বারের নির্বাচনে ঘাসফুল ফোটাতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের চাটাই বৈঠক কোনও প্রভাব পড়বে না।
বনগাঁ উত্তরে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর সমর্থনে আগামী মঙ্গলবার বনগাঁয় সভা করতে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের কয়েকটি বুথ ও অঞ্চলে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক অনেকটাই শক্তিশালী। প্রার্থী হওয়ার পর প্রতিদিন তিন চারটি ছোট ছোট কর্মী বৈঠক করে দলকে চাঙ্গা রাখতে চাইছেন বিশ্বজিৎ। যে সব এলাকায় বিজেপির শক্তি বেশি, সেই জায়গাগুলোকেই টার্গেট করে চাটাই বৈঠক করছেন তিনি। তৃণমূলের দাবি, এর ফলে সরাসরি স্থানীয়দের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ যেমন হচ্ছে, তেমনই গত পাঁচ বছর এই কেন্দ্রের বিজেপির বিধায়কের বিরুদ্ধে অভাব, অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে উঠে আসছে।
বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমি এই পদ্ধতির মাধ্যমে জনসংযোগ বেশি করার চেষ্টা করছি। পাড়ার একটা জায়গায় বসে কথা বললে এলাকার মানুষের অভিযোগ বা দাবি শোনা হচ্ছে। এর সুফল মিলছে। এ বার বনগাঁ উত্তর তৃণমূল জিতবে। মঙ্গলবার নেত্রী আসছেন। তিনি কী বার্তা দেন, সেই অনুযায়ী প্রচার আরও বাড়বে।’ বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘বনগাঁ উত্তর বিজেপির দুর্জয় ঘাঁটি। ২০২১ সালের জয়ের ধারা এ বারেও বজায় থাকবে।’
বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রেও মতুয়া ভোট একটা ফ্যাক্টর। গত বিধানসভায় এই কেন্দ্র থেকে অশোক কীর্তনিয়ার জয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ৪৪৮। এ বার সার নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে মতুয়াদের ক্ষোভ বেড়েছে। কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা থেকে আগেই বাদ গিয়েছিল ৭ হাজার ৯২৬ জন। বাকি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে আরও ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। ফলে চাপের মুখে রয়েছে পদ্ম শিবির।সেটাকেই এ বার কাজে লাগাতে তত্পর বিশ্বজিৎ।