• আবেগই ভরসা সন্তর, রামেন্দুর নজর ব্যবধানে
    এই সময় | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সরকার, তারকেশ্বর

    কখনও অসহায় মহিলার চোখের জল মুছিয়ে, কখনও অশীতিপর বৃদ্ধার পায়ে পড়ে নিজের গলার মালা তাঁকে পরিয়ে, আবার কখনও শাসকদলের অন্যায় দেখে নিজেই প্রতিবাদ করা, প্রতিবাদের সুরে তীব্র হুঙ্কার দিয়ে ভোটে চ্যালেঞ্জ ছোড়া এই ভাবেই গ্রামেগঞ্জে, পাড়ায় পাড়ায়, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটের প্রচার করছেন তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান। তাঁর এই প্রচার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের আরামবাগ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি রামেন্দু সিংহরায়ের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে দিয়েছে বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। এতে দৃশ্যতই বেশ চিন্তিত শাসক শিবির।

    উল্লেখ্য, গত বারের নির্বাচনে তারকেশ্বর থেকে তৃণমূলের এই বিধায়কের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। শেষ পর্যন্ত স্বপন রামেন্দুর কাছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন। কিন্তু এ বারে একেবারে প্রতিবাদী চরিত্র, তরুণ তুর্কি, লড়াকু সন্তু পান যে ভাবে প্রচারে নেমেছেন, তা শাসকদলকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। তৃণমূলের অন্দরেও তা নিয়ে চর্চা চলছে জোর কদমে। আবার শাসকদলেরই নেতা নাইটামাল পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ আক্কাস গোষ্ঠী কতটা সক্রিয় ভাবে কাজ করবেন, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, রামেন্দুর একেবারে বিরোধী গোষ্ঠী এই আক্কাস কয়েক মাস আগের এক সমবায় সমিতির নির্বাচনে প্রকাশ্যেই সেই হুমকি দিয়েছিলেন যে, 'ভোটের সময়ে দেখা যাবে।' আবার পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু কতটা ময়দানে সক্রিয় থাকবেন, প্রশ্ন রয়েছে সেই নিয়েও। যদিও উত্তম কুণ্ডু 'এই সময়'-কে জানিয়ে দেন, 'কোনও গুজবে কান দেবেন না। আমরা সবাই এক। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। সুতরাং, আমরা জিতছি। সন্তু উড়ে যাবে।'

    তবে প্রতিবাদী চরিত্র ও দামাল দাপুটে সাংবাদিক সন্তু পান একেবারেই চাষির ঘরের ছেলে। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা। বহু চেষ্টা করে সাংবাদিকতায় সুনাম অর্জন এবং একের পর এক রিপোর্টিং করে একেবারে ফোরফ্রন্টে এসে নিউজ করা। এর পরেই সরাসরি রাজনীতির ময়দানে এসে একেবারে রামেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁর চ্যালেঞ্জ ছোড়া কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে রামেন্দু-সহ তৃণমূলের নেতানেত্রীদের। তবে হারা আসন কী ভাবে উদ্ধার করতে পারবেন সন্তু, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।

    তারকেশ্বর এলাকার কুমরুল, বান্না, সাহাবাজার, বালিগোড়ি, বিনোগ্রাম, রামনগর, সাহাচক, নাইটামাল পাহাড়পুর-সহ একাধিক অঞ্চলে গিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন সত্ত্ব। ভোটের প্রচারে নেমে সহানুভূতি আদায়ের নানান কৌশল অবলম্বন করেছেন তিনি। প্রচারে সন্তকে দেখে এলাকার বাসিন্দারা আপ্লুত হয়ে যান। সেখানে সন্তু নিজেই স্লোগান তুলে বলেন, 'পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।' মহিলাদের চোখের জল দেখে আবেগে উত্তেজিত হয়ে সন্তুর হংকার, 'এ বারে বদল হবে মা, আর বদলাও হবে। আমি বদলা নেব। কাউকে রেয়াত করা হবে না। ওই চোর তৃণমূলকে বাংলাছাড়া করতে হবে। আসুন মায়েরা, আমরা শপথ নিই, এ বার এই বাংলায় চাই বিজেপি সরকার।'

    তাঁর এই আবেগরুদ্ধ প্রচার রামেন্দুর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও রামেন্দু সিংহরায় বলেন, 'খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। ও যে সব কথা বলছে বা যা করছে, সেগুলো সব জোকারের কথা। রাজনীতিতে আবেগ চলে না। তারকেশ্বরে আমি গত বারে অর্থাৎ ২০২১ সালে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছি। ২০২৪-এ তৃণমূল এগিয়েছিল ১১ হাজারেরও বেশি ভোটে। এ বারে আরও বেশি ভোটে হারাব। তারকেশ্বরে কোনও দিনই বিজেপি তৃণমূলকে হারাতে পারবে না।'

  • Link to this news (এই সময়)