সুপ্রিম কোর্টে নয় বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশের অধিকার সংক্রান্ত রিভিউ পিটিশনের শুনানি।
সাংবিধানিক বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকবেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বাকি আট বিচারপতি হলেন বিভি নাগারত্না (সুপ্রিম কোর্টের একমাত্র মহিলা বিচারপতি), বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ, বিচারপতি আসানুদ্দিন আমানুল্লা, বিচারপতি অগাস্টিন জি মসিহা, বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারলা, বিচারপতি আর মহাদেবন, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অরবিন্দ কুমার।
সূত্রের খবর, ৭ এপ্রিল রিভিউ পিটিশনের শুনানি শুরু হবে। শুনানি শেষ হবে ২২ এপ্রিল।
২০১৮ সালে শীর্ষ আদালতের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছিল, কেরালার বিখ্যাত শবরীমালা মন্দিরে (Kerala Sabarimala Temple ) সব বয়সের মহিলারা যেতে পারবেন। ওই রায় পুনরায় খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়ে ৬৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। শবরীমালা মন্দিরে বহু যুগ ধরে ১০-৫০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক এবং মহিলাদের ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। পাঁচ বিচারপতির মধ্যে চার জন নিষেধাজ্ঞা জারির বিপক্ষে রায় দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ রায় দিয়েছিল, কেবল ১০-৫০ বছর বয়সি মহিলারা নন, যে কোনও বয়সের মহিলা ওই মন্দিরে ঢুকতে পারবেন। কিন্তু সেই রায় পুরনায় বিবেচনার আর্জি যাঁরা জানিয়েছেন, তাঁরা আরও বড় সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত 'essential religious practices'-এর প্রশ্নে আদালত প্রাধান্য দিয়েছে, ওই ধরনের ধর্মীয় আচার পালন সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করেছে কি না, তাকে গুরুত্ব দিতে বা তার বিচার করতে। নয় বিচারপতির বেঞ্চ দেখবে, ধর্মীয় কোনও আচার পালন জরুরি কি না এবং এই ধরনের জরুরি ধর্মীয় বিষয়ে বিচার করার এক্তিয়ার আদালতের কতদূর রয়েছে বা আদৌ রয়েছে কি না। এই মামলায় রায় কেবল শবরীমালা মন্দিরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে না। মসজিদ, চার্চ, গুরুদ্বার বা হিন্দুদের অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।