রনি চৌধুরী, ধূপগুড়ি
নির্বিঘ্নে গণতন্ত্রের উৎসব সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাচন কমিশনেরই নেই। পাশাপাশি বন দপ্তরেরও রয়েছে। চিতাবাঘ ও হাতি অধ্যুষিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের বুথগুলিতে নিরাপদে ভোট সম্পন্ন করতে এখন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছেন বনকর্মীরা।
জলপাইগুড়িতে বিধানসভার সংখ্যা সাতটি। জেলায় আনুমানিক ১০০-র উপরে বনবস্তি রয়েছে, যেগুলির অধিকাংশই বন্যপ্রাণী উপদ্রুত এলাকা হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণী স্কোয়াডের অধীনস্থ চা-বাগান এলাকা থেকে সাতটি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে। গত এক বছরে চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে দু'জনের এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। হাতির হামলায়ও একাধিক প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গল লাগোয়া ওই সব এলাকায় যাতায়াতই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পরে। সেখানে ভোট নেওয়াটা যে কতটা ঝুঁকির, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের খ্যারকাটা গ্রাম হিন্দি প্রাইমারি স্কুলে রয়েছে দু'টি বুথ। এই কেন্দ্রটির চারপাশেই জঙ্গল। গত কয়েক বছরে ওই স্কুলে ১৭ বারের বেশি হাতির হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই স্কুলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগে রয়েছে বন দপ্তর। একই ভাবে গয়েরকাটা মরাঘাট রেঞ্জের খট্টিমারি বিট সংলগ্ন একটি প্রাথমিক স্কুলেও রয়েছে দু'টি বুথ। এই স্কুল ভবনও একাধিকবার বুনো হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওই সব কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া বুথগুলিতে বাড়তি দায়িত্বে রাখা হয়েছে বনকর্মীদের। বন দপ্তর, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথ ভাবে জঙ্গল সংলগ্ন বুথ ও সংযোগকারী রাস্তায় নজরদারি চালাবে।
এখন থেকেই বনকর্মীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করছেন যে, বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হলে কী ভাবে নিরাপদ থাকতে হবে। ভোটকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বন দপ্তরের জরুরি ফোন নম্বর, যাতে কোনও বিপদের পরিস্থিতিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া যায়। চা-বাগানের বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ আনসারি বলেন, 'প্রতিদিনই জঙ্গল থেকে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে ভয় রয়েছে। আমরা চাই কমিশন এমন ব্যবস্থা করুক, যাতে নিরাপদে ভোট দিতে যেতে পারি।'
বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণী স্কোয়াডের রেঞ্জার হিমাদ্রি দেবনাথ বলেন, 'বর্তমানে চা-বাগান এলাকায় চিতাবাঘের উপদ্রব এবং হাতির আনাগোনা বেড়েছে। বাসিন্দারা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেটাই আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই বনবস্তি ও হাতির করিডর সংলগ্ন এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। ভোটের দিন কী ভাবে চলাফেরা করতে হবে, তা মানুষকে জানানো হচ্ছে।'