• ভোট না দিয়েও ডিউটি সামলায় হিলারি, তিস্তারা
    এই সময় | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • অর্ঘ্য বিশ্বাস, গোরুমারা

    খাতায়-কলমে তারা সরকারি কর্মী। কিন্তু ভোটদানের তাদের অধিকার নেই। যদিও ভোটের নিরাপত্তায় তাদের সতর্ক থাকতে হয়। 'ডিউটি'তে ফাঁকির কোনও বালাই নেই। গোরুমারার মোতিরানি, রামী, কিরণরাজ, আমনা, শিলাবতী, হিলারি, তিস্তা, সূর্যর মতে কুনকিরা প্রত্যেকেই বন দপ্তরের কর্মী। সরকারি কোষাগার থেকে তাদের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু ভোটদানের সুযোগ নেই ওদের। যদিও নির্বাচনের দিনে কোনও বুনোর হামলা হলে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয় কুনকিদের।

    গোরুমারা জঙ্গল-সহ পাশ্ববর্তী বনাঞ্চল এলাকাজুড়ে রয়েছে বেশ কিছু ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। বন্যপ্রাণীর আনাগোনা সেই সমস্ত এলাকায় প্রাত্যহিক বিষয়। বামনডাঙ্গা, টুন্ডু, পানঝোড়া, লাটাগুড়ি, রামসাই-সহ বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গলের গা ঘেঁষেই রয়েছে একাধিক ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। প্রতিবারই সুষ্ঠু ভাবে ভোট সম্পাদিত করতে বন দপ্তরের তরফে নজরদারি চলে সেখানে। ভোটের দিন হাতি, গন্ডার, বাইসন, লেপার্ড যাতে বেরিয়ে না আসে সে দিকে নজর রাখেন বনকর্মীরা।

    তাঁদের পাশাপাশি জঙ্গলের ভিতরে সুরক্ষায় তৈরি থাকে কুনকিরাও। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও সেই ছবি বদলাবে না। গোরুমারা জঙ্গল লাগোয়া রামসাই কালামাটির বাসিন্দা উমাশঙ্কর কুজুর বলেন, 'অরণ্যের মাঝে আমাদের কালামাটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। সন্ধ্যা গড়াতেই এখানে বন্যপ্রাণীর বেরিয়ে আসে। যদিও বন দপ্তরের তরফে প্রতিবারই ভোটের আগে থেকেই বুথটিকে ঘেরাটোপে রাখা হয়। আশা করি এ বারেও তার ব্যতিক্রম হবে না।'

    বনকর্মীদের পাশাপাশি আপতকালীন পরিস্থিতিতে কুনকিরাও প্রস্তুত থাকে। গোরুমারায় এই মুহূর্তে ৩১টি কুনকি হাতি রয়েছে। প্রায় প্রত্যেকেই ভোটের 'ডিউটি' করবে। গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে বন দপ্তরের কাছে এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি। তবে বনকর্মীরা প্রস্তুত আছেন। রুটিন নজরদারিও চলছে।'

  • Link to this news (এই সময়)