এই সময়, মালদা: অতিরিক্ত জেলাশাসককে মোথাবাড়ির ঘটনায় শো কজ় করলেন মালদার জেলাশাসক।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রেখে হেনস্থার ঘটনা এবং মালদা জেলা জুড়ে গত বুধবার ১ এপ্রিল যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল, তার জন্য অতিরিক্ত জেলাশাসককে (জেলা পরিষদ) শেখ আনসার আহমেদকে মালদার জেলাশাসক রাজনভীর সিং কাপুর শো কজ় করেছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’ প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া নিয়ে মোথাবাড়ি, সুজাপুর, ইংরেজবাজার–সহ মালদার বিভিন্ন এলাকায় রাজ্য ও জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়েছিল এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। মালদা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। অশান্তির বিভিন্ন ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ করতে দেখা যায় এডিএম (জেলা পরিষদ) শেখ আনসার আহমেদকে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ে পরিস্থিতি সঠিক ভাবে মোকাবিলা করতে ও কর্তব্য পালনে ওই অতিরিক্ত জেলাশাসক ব্যর্থ হন। যে কারণে তাঁকে শো কজ় করেছেন ডিএম। মোথাবাড়ির ঘটনায় রবিবার আরও ছ’জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রত্যেকেই ধরা পড়েছে মোথাবাড়ি থানার পুলিশের হাতে। এই নিয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৩।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মোথাবাড়ির অশান্তির ঘটনার তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। রবিবার ছিল এনআইএ তদন্ত হাতে নেওয়ার পরে তৃতীয় দিন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অফিসাররা এ দিন কালিয়াচক থেকে ইংরেজবাজারের বিভিন্ন এলাকায় যান। তাঁরা এ দিনও মোথাবাড়ি বিধানসভার এলাকার অন্তর্গত কালিয়াচক–২ নম্বর ব্লক অফিসের কয়েক জন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কালিয়াচক–২ নম্বর ব্লক অফিসে রবিবার সকালেই ডেকে পাঠানো হয় মালদা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্য সরকারকে। কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গেও এনআইএ কথা বলেছে। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত এনআইএ প্রায় ১৫০ জনকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
গত বুধবারের ঘটনার জেরে বিডিও অফিসের বাইরের দোকানপাট রবিবারও তেমন সংখ্যায় খোলেনি। ওই এলাকায় এ দিন সকাল থেকে মাছ, মুরগি–সহ বিভিন্ন দোকানের মালিকরা ঝাঁপ বন্ধ করে রাখেন। সেটা কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর জন্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এনআইএ–র তদন্তকারীরা এ দিন বিডিও অফিস সংলগ্ন বিভিন্ন গাড়ির স্ট্যান্ডে গিয়ে কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেন। আবার, ইংরেজবাজার শহরের পুলিশ লাইনের কয়েকটি তল্লাটের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন তাঁরা। এনআইএ সূত্রের খবর, আপাতত রবিবার রাতেই মালদা ছেড়ে তাঁদের ফেরার কথা। কারণ আজ, সোমবার আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা এনআইএ–র। ইতিমধ্যেই এনআইএ–র একটি টিম মোথাবাড়িতে আক্রান্ত এক বিচারকের বালিগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন, এমনটা সূত্রের খবর। ঘটনার আগে ও পরে কী হয়েছিল? কত লোকের জমায়েত ছিল? পাইলটে কার সামনে রেখে যখন বিচারকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সময়ে রাস্তাযর কোন কোন জায়গায় তাঁদের আটকানো হয়েছিল? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।
বিচারকদের পাইলট কারের জখম চালকের সঙ্গে মালদা মেডিক্যাল কলেজে এনআইএ–র তদন্তকারীদের কথা বলার সময়ে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন, এ রকম দাবি করা এক রোগীর বক্তব্য, দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনামাফিক হামলা চালানো হয় বিচারকদের গাড়ির কনভয়ে এবং যার ফলে পুলিশের পাইলট কার রাস্তার ধারে গর্তে গিয়ে পড়ে। জখম ওই পাইলট গাড়ির চালক এবং গাড়িতে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান।