• সময় পেয়েছেন মাত্র দেড় বছর, হাইমাস্ট, পথবাতি, কালভার্ট করেছেন মাদারিহাটের বিধায়ক জয়প্রকাশ
    বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারের নজরকাড়া বিধানসভা আসনগুলির মধ্যে অন্যতম মাদারিহাট। চা বাগান, নদী ও জলদাপাড়া জঙ্গল দিয়ে ঘেরা এই বিধানসভা আসন। ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা ১৯টি চা বাগান ও ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে গঠিত। ২০১৬ ও ২০২১ সালে মাদারিহাটে পরপর জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২৪ সালে বিধানসভার উপনির্বাচনে একদা জেলার এই পদ্মবন জোড়াফুলের উত্থানে ছারখার হয়ে যায়। 

    উপনির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে বিধায়ক হন তৃণমূলের জয়প্রকাশ টোপ্পো। সেই অর্থে জয়প্রকাশ টোপ্পো পুরো মেয়াদের বিধায়ক ছিলেন না। তিনি দেড় বছরেরও কম সময়ের বিধায়ক। ফলে অন্য বিধায়কদের মতো জয়প্রকাশবাবু ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পাননি। দেড় বছরের মেয়াদের হিসাবে তিনি মাত্র ৭০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। জয়প্রকাশ টোপ্পো জানতেন অল্প সময়ের বিধায়ক হওয়ার কারণে তাঁর পক্ষে তহবিলের অর্থে বিধানসভার সব এলাকার উন্নয়নের কাজ সম্ভব নয়। সেই জন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, সেচদপ্তর ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরকে ধরে বিধানসভার ১৯টি চা বাগান ও ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নদী ভাঙন রোধ, পানীয় জল প্রকল্প, রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট তৈরির কাজ করেছেন। 

    বিজেপির অবশ্য দাবি, বিধায়ক উপ নির্বাচনের সময় দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতিও রাখতে পারেননি। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মিঠুন ওরাওঁ বলেন, উপ নির্বাচনের সময় তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক গয়েরকাটায় পুলিশ ফাঁড়ি, বিন্নাগুড়িতে গ্রামীণ হাসপাতাল ও মাদারিহাটে কলেজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এমএলএ সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। বিধায়ক হিসেবে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। 

    তবে পালটা তোপ দেগে তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার বলেন, ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দু’বার বিধানসভা ভোটে জিতে মাদারিহাটের এমএলএ হয়েছিলেন মনোজ টিগ্গা। মনোজবাবু তাঁর ১০ বছরের বিধায়ক থাকার মেয়াদে এলাকায় কোনো উন্নয়নের কাজই করেননি। কিন্তু আমাদের দেড় বছরের বিধায়ক বহু কাজ করেছেন। আরও কিছু কাজ বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। 

    বিদায়ী বিধায়ক জয়প্রকাশ বলেন, আমি বিধায়ক তহবিল থেকে মাত্র ৭০ লক্ষ টাকা পেয়েছি। আমার বিধানসভা এলাকাটি বন্যপ্রাণী উপদ্রুত। সেজন্য হাইমাস্ট, পথবাতি ও কালভার্টের মতো ছোট ছোট কাজেই টাকা দিয়েছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, সেচদপ্তর ও অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরকে দিয়ে ১৯টি চা বাগানে অসংখ্য রাস্তা, পানীয় জল প্রকল্প, নদী ভাঙন ও পাকা সেতুর কাজ করিয়েছি। সেখানে ১০ বছরের বিজেপি বিধায়ক কী উন্নয়নের কাজ করেছেন তার তালিকা দিন। আর মাদারিহাটে আইটিআই তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। মাদারিহাটে কলেজ তৈরি হবেই। 

    • জয়প্রকাশ টোপ্পো।
  • Link to this news (বর্তমান)