নিজস্ব প্রতিনিধি,কোচবিহার: রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি জনসভায় দ্বিতীয় সারিতে বসার স্থান পেলেন দুই গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজ ও বংশীবদন বর্মন। সভা শুরু হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই মঞ্চে ওঠেন একদা গ্রেটারের দুই শিবিরের দুই শীর্ষ নেতা।
এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন গ্রেটার নেতা বংশীবদন। তাঁর সঙ্গে বিজেপির আসন রফাও হয়। সেই হিসাবে সিতাই ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বংশীবদন বর্মনের গ্রেটারের দুই প্রার্থী বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে লড়ছেন। অন্যদিকে, অনন্ত মহারাজ ঘনিষ্ঠ হরিহর দাস শীতলকুচি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। মহারাজ আবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ। গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন এখনও রাজ্য সরকার গঠিত রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান।
এই আবহে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর এবার কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোট আদায়ের সমীকরণ অনেকটাই জটিল হয়ে উঠেছে। বিজেপি যদিও প্রধানমন্ত্রীর সভায় দুই গ্রেটার নেতা দ্বিতীয় সারিতে বসার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। বংশীবদন বর্মনও বিষয়টি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি ও গ্রেটারের দুই প্রার্থী সামনের আসনেই বসেছেন। আর তাঁরা দ্বিতীয় সারিতে বসেছেন।
গ্রেটার নেতা বংশীবদন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভায় আমি দ্বিতীয় সারিতে বসেছি। এটা বড় কোনো বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর সভাতেও আমি কখনও প্রথম সারিতে, কখনও দ্বিতীয় সারিতে বসেছি। হয়ত কোনো দিন বিজেপির সভায় প্রথম সারিতে বসব। গ্রেটারের সমর্থকরা এই সভায় এসেছিলেন বলেই সভায় এত ভিড় হয়েছে।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, প্রথম সারি, দ্বিতীয় সারিতে বসা নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। তবে এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি জনসভা। প্রটোকল অনুযায়ী যাঁরা প্রার্থী তাঁরাই সামনের সারিতে ছিলেন। সব বিধানসভার প্রার্থীই মহারাজার প্রার্থী। তিনি নির্বাচনে লড়াই করেন না। তিনিই নেপথ্য শক্তি।
রাসমেলা ময়দানে এর আগে গ্রেটারের বহু সভা হয়েছে। সেইসব সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে অনন্ত মহারাজ, বংশীবদন বর্মনকে দেখা গিয়েছে। এবারের নির্বাচনের সমীকরণে একের পর এক বদল সামনে এসেছে। রাজনীতির সেই ঘূর্ণাবর্তে অনন্ত মহারাজ ও বংশীবদন বর্মন দু’জনই এখন পদ্ম ঘনিষ্ঠ। গ্রেটারের রাজ্যভাগ সহ অন্যান্য যেসব দাবি রয়েছে সেগুলিকে বাস্তবায়িত করাই যে এই দুই নেতার মূল লক্ষ্য, তা বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরও একবার স্পষ্ট হল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, এদিন জনসভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ জেলা বিজেপির বাছাই করা নেতৃত্ব। • মোদির মুখোশে বিজেপি সমর্থকরা। - নিজস্ব চিত্র।