• ‘অনুপ্রবেশ-সিন্ডিকেট’: মোদির মুখে সেই বস্তাপচা বুলি
    বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: এসআইআর আবহে যখন পশ্চিমবঙ্গের প্রায় কোটি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে নাজেহাল হচ্ছেন, ঠিক সেই সময় কোচবিহারে সভা করতে এসে বস্তাপচা ‘অনুপ্রবেশকারী’ তত্ত্ব আওড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, রাজ্যে তৃণমূল জমানায় বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস ভয়াবহভাবে বদলে যাচ্ছে, আর সেই কাজে সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। যদিও অনুপ্রবেশকারী তত্ত্বের স্বপক্ষে কোনো তথ্য এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রীর গলায় শোনা যায়নি। রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে বিজেপির নির্বাচনি জনসভা থেকে নরেন্দ্র মোদি সাফ বলেন, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে বাংলার সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাসে ভয়ংকর বদল এসেছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের সরাসরি সুরক্ষা পায়। তারপর তৃণমূল সোজা তাদের সিন্ডিকেটের ভরতি করে নেয়। বাংলার জন্য বড়ো বিপদ বাড়ছে।

    কোচবিহার তথা গোটা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত দীর্ঘ। এর বহু এলাকায় কাঁটাতার নেই। বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কাঁটাতার পেরিয়ে কিংবা কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে। বিজেপির এই যুক্তিকে বারবার খণ্ডনসহ তৃণমূল দাবি করেছে, সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব কেন্দ্রের। যুযুধান দুই দলের এই টানাপোড়নের মাঝেই এসআইআর আবহে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। তালিকায় নাম তোলার জন্য এখনো লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁরা।ঠিক এই আবহে রাসমেলা ময়দান থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বাইরে পাঠানোর কাজ করছে ভারত সরকার। শুধু ভারতই নয়, দুনিয়ার বড়ো বড়ো দেশ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করছে। অন্যদিকে, বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে টিএমসি সরকার। 

    এরপরেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এসআইআর প্রসঙ্গে রাজ্যের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। মোদি বলেন, যাতে অনুপ্রবেশকারীদের চেনা না যায়, তার জন্যই এসআইআরের বিরোধিতা করছে তৃণমূল। উলটে সিএএ-কে আটকানোর ‘ধমকি’ দিচ্ছে। তার মানে, যেসব হিন্দু শরণার্থীর নাগরিকত্ব মিলেছে, এরা তা ছিনিয়ে নিতে চাইছে। তারা এই নাগরিকত্ব দিতে চাইছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের! কারণ, অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ভোটব্যাংক বলে মনে করে তৃণমূল। 

    এদিন সভার শুরু থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব ছিলেন মোদি। তাঁর দাবি, বদলে যাওয়া জনবিন্যাস থেকে স্বাধীনতা নষ্ট হওয়ার ভয় রয়েছে। নিজের মাটিতে মাথা উঁচু করে বাঁচার ভরসা বিজেপি।এদিনের সভায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে সিন্ডিকেটরাজ, সম্পত্তি লুট, সন্দেশখালি ইস্যু, বেকারি প্রভৃতি প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। নির্বাচনের দিন নির্ভয়ে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ওইসঙ্গে মনে করিয়ে দেন, নির্বাচনের পর পুরো হিসাব হবে। তিনি বলেন, ‘চুন চুনকে’ হিসাব করা হবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ নিজে করবে। দুর্নীতিগ্রস্তদের লুটের টাকা জনতাকে ফেরাতে হবে। মালদহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালদহে বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল। এটা কেমন সরকার? কেমন ব্যবস্থা? বিচারক, সংবিধান সুরক্ষিত নয়! মালদহের ঘটনা কেবল তৃণমূলের উচ্ছৃঙ্খলতা নয়, একটা নির্মম সরকারের মহাজঙ্গলরাজ!

    এদিনের সভায়, মহিলা ভোটকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মহিলা সশক্তিকরণের উপর জোর দেন। যুব ভোটকে নিজেদের পক্ষে টানতে তৃণমূলের চাকরি দুর্নীতির প্রসঙ্গ আনেন। এছাড়া উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের ঢিলেমির অভিযোগ তুলেও সরব হন নরেন্দ্র মোদি। 
  • Link to this news (বর্তমান)