• নাম বাদ পড়ায় জেলাজুড়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন মতুয়ারা
    বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কথা দিয়ে, কথা রাখেনি বিজেপি— হতাশ ও আক্ষেপের সুরেই বলছিলেন কালীগঞ্জের বড়ো চাঁদঘর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সুশান্ত বাড়ুই। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর ও তাঁর দুই ভাইপোর নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপির গালভরা প্রতিশ্রুতি শুনে তাঁর মনেও ভরসা জেগেছিল যে ভোটাধিকার নিয়ে কোনো কাটাছেঁড়া হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির গোটাটাই যে ‘অশ্বডিম্ব’, সাপ্লিমেন্টারির বিয়োজনের তালিকায় নিজের নাম দেখে তা একপ্রকার নিশ্চিত হয়েছেন। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ এই মাটিতেই থেকেছে। এইভাবে মতুয়াদের হয়রান করলে বিজেপির দিকে আর যাবে না। আমার ভাইপোর পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দেওয়ার পরেও নাম বাদ দিয়েছে। এগুলো মানুষকে হেনস্তা করা নয় তো কী?’ 

    শুধু সুশান্ত বাড়ুই নয়। নদীয়া জেলাজুড়ে এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় ফুঁসছেন মতুয়ারা। কালীগঞ্জ থেকে হরিণঘাটা, কৃষ্ণগঞ্জ থেকে কৃষ্ণনগর— নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মতুয়াদের নাম বাদ পড়ার হিড়িক লেগেছে। সিএএতে আবেদন করেও পার পাননি। হারাতে হয়েছে ভোটাধিকার। নদীয়া জেলার সরেন পাল, অনিতা হালদার, যোগেন অধিকারীরা ‘বিশ্বাসভঙ্গ’র জন্য ইভিএমে শিক্ষা দিতে মরিয়া হয়েছেন। কারণ ছিন্নমূলের আতঙ্ক তাঁদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। 

    নদীয়ার জেলাশাসকের অফিসে গাছের তলায় বসে ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব পুষ্পরানি বিশ্বাস। বয়সের কারণে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বাড়ি গিয়ে নির্বাচন কমিশন ভোট নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এবার তাঁর ভোটাধিকারই নেই, কিছুতেই তা মানতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘কীভাবে নাম বাদ গেল বুঝতেই পারলাম না। কয়েকদিন আগে বাড়িতে এসে আমার প্রতিবেশী বলল, আমার নাম নাকি ভোটার লিস্টে নেই।‌ অফিসে ফর্ম জমা দিতে এসেছি। জানি না নাম উঠবে কি  না।’

    কালীগঞ্জ বিধানসভার বড়ো চাঁদঘর গ্রামের ৩৮, ৩৯, ৪২ এবং ৪৩ বুথে কম বেশি আড়াই হাজার মতুয়ার বাস। এই চারটি বুথেই প্রায় ১৮০ জন মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ৪২ নম্বর বুথে ৫৮ জন, ৪৩ নম্বর বুথে ৩৮ জন, ৩৮ নম্বর বুথে ৬৪ জন এবং ৩৯ নম্বর বুথে ১৪ জন ভোটার এবার ভোট দিতে পারবেন না। তাঁদের ভরসা এখন ট্রাইব্যুনাল। গ্রামবাসীদের কথায়,  ‘আমাদের নাম বাদের পড় বিজেপি আশ্বাসটুকুও দিতে আসেনি।’

    কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভায় কমবেশি প্রায় ৪০ শতাংশ মতুয়ার বাস। সেই বিধানসভার শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের তারকনগর এলাকার ১০৯ থেকে ১১৫, এই সাতটি বুথ মতুয়া অধ্যুষিত। অষ্টম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরনোর পর দেখা যাচ্ছে সেখানেও প্রায় ৬০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মাজদিয়ার এক বাসিন্দা বলছিলেন, ‘নাগরিকত্ব দেবে বলে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এতদিন বিজেপি নাগরিকত্ব দেবে বলে ভোট চাইত। আগামী দিনে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে বলে ভোট চাইবে। এটা মানা যায় না।’

    দক্ষিণপাড়া গ্রামের ১৬৪ নম্বর বুথের বাসিন্দা প্রীতি আধিকারী বলছিলেন, ‘অন্যায় ভাবে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিজেপিকে চাই না।’ এখনও পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, নদীয়া দক্ষিণের মতুয়াগড়েই নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াতে চলেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)