মনোনয়ন প্রত্যাহার না হলে বহিষ্কার করা হবে মনিরুলকে, বার্তা মমতার
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সবুজ বিশ্বাস, সামশেরগঞ্জ: ভোটের মুখে টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহের সুর ফরাক্কার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের গলায়। আর সেই বিদ্রোহ অঙ্কুরেই বিনাশ করতে এবার চরম কড়া অবস্থান নিলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সামশেরগঞ্জ কৃষক বাজার মাঠ থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের স্বার্থ মেনে যদি মনিরুল লড়াই থেকে সরে না দাঁড়ান, তবে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হবে। জেলা সভাপতি খলিলুর রহমানকে ইতিমধ্যেই এবিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। পাশাপাশি কাজ না করলে টিকিট দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। যদিও এবিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু খোলসা করেননি মনিরুল।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, এবিষয়ে দিদি না নির্দেশ দিয়েছেন, সেই মতো তাঁর সঙ্গে কথা বলব। তারপর দলের সীদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
এবার ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উপর ভরসা রাখেনি ঘাসফুল শিবির। টিকিট না পেয়ে তিনি কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনুগামীদের নিয়ে বৈঠক করে সাফ জানিয়ে দেন, হয় অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের হাত ধরে, নয়তো প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী হিসাবেই তিনি ভোটের ময়দানে নামবেন। শনিবার দুপুরে তিনি জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের অফিসে মনোনয়নপত্র জমা করেন। মনিরুলের এই অবস্থানে অস্বস্তিতে পড়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদের রাজনীতির অলিন্দে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি ফরাক্কায় নির্দল কাঁটায় বিদ্ধ হতে চলেছে জোড়াফুল? বিষয়টি কানে পৌঁছাতেই আর সময় নষ্ট করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। টিকিট পাননি বলে দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট লড়া বরদাস্ত করা হবে না। হয় দলের অনুগত সৈনিক হিসাবে কাজ করতে হবে, না হলে বহিষ্কারের পথ খোলা। জেলা সভাপতি খলিলুর রহমানকে নেত্রীর নির্দেশ মনিরুলকে বুঝিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত বদল করতে বলতে হবে। অন্যথা হলে কড়া পদক্ষেপ নিতে দেরি করা চলবে না।
নেত্রীর এই কড়া বার্তার পর স্বভাবতই চাপে ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক। তবে মনিরুল তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু খোলসা করেননি। মনিরুল বলেন, এনিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। শেষ সিদ্ধান্ত পরে জানাব। তিনি কি শেষ পর্যন্ত নেত্রীর নির্দেশ মেনে দলের পাশেই থাকবেন, নাকি নির্দল হিসাবে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়বেন হাইকম্যান্ডকে, সেদিকেই তাকিয়ে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহল।