তালিকা থেকে আমাদের নাম কেন বাদ? ভোটহারাদের প্রশ্নবাণে দায় এড়ালেন মনোজ
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের ক্ষোভ উগরে দিল নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা। অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের মধ্যে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে থাকলেও সাধারণ ভোটারদের নাম বিপুলভাবে বাদ যাচ্ছে কেন, এই প্রশ্নও তোলা হল। রবিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের দক্ষিণ কেন্দামারি প্রাথমিক স্কুলে বুথ ভিজিটে গিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। সেখান থেকে তাঁর কনভয় ঘুরে আসার পথে দক্ষিণ কেন্দামারি সাঁকোর উপর অপেক্ষারত নূর আলম শা, নূর আলম মল্লিক, রহিমুল মল্লিক সহ আরও অনেকে সিইও-র কাছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ কেন্দামারিতে ২২৮ ও ২২৯নম্বর দু’টি বুথ আছে। গ্রামবাসীরা জানান, একটি বুথে ৭৫ জন এবং আরেকটি বুথে ৪১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। দফায় দফায় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হলেও ওই সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। বাদ যাওয়া ভোটারদের অধিকাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ রেখে ভোটগ্রহণ কতখানি যুক্তিযুক্ত? গাড়িতে বসে স্থানীয়দের ক্ষোভের কথা শোনেন সিইও। তারপর বলেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়মের মধ্যে অ্যাডজুডিকেশন বিষয়টি নেই। লিস্ট প্রকাশের পর অবস্থা খারাপ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আর্টিকল ১৪২ প্রয়োগ করে এরকম একটা রায় দিয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের মাধ্যমে বাদ যাওয়ার পর কোনো নাম জেলা নির্বাচনি আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার কিংবা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক ঢোকাতে পারবেন না। এখন গোটা বিষয়টি বিচার বিভাগের অধীনে চলে গিয়েছে। নাম বাদ যাওয়ার পর সেখানে আবেদন করতে হবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এদিন নন্দীগ্রামে সিইও-র কনভয় ঢোকার পর প্রথম সেটি থামে সরস্বতী বাজারে। গাড়ি থেকে নেমে কাজল নায়েক নামে এক ভোটারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক। সেখানেই দাঁড়িয়েছিলেন ওসমানচক গ্রামের শেখ সেরাফত। সেরাফত বলেন, আমার নিজের নাম এবং দুই ছেলে শেখ আজহারউদ্দিন ও শেখ আনসারের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে। এতবছর ধরে ভোট দিয়ে এসেছি। এবার ভোটের মুখে তালিকা থেকে নাম যাওয়ায় ভোট দিতে পারব না।
শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম বিধানসভায় প্রায় ১৬ হাজার অ্যাডজুডিকেশন ভোটার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার ভোটারের নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে। কেন্দামারি-জালপাই, মহম্মদপুর, সামসাবাদ, দাউদপুর প্রভৃতি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বেশি নাম বাদ পড়েছে। মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৩ নম্বর বুথে ৭৯ জন ভোটারের নাম বাদ। ওই বুথের বাসিন্দা ২৮ বছরের আসফাক খানের নাম বাদ পড়েছে। আসফাকের বাবা কুতুবউদ্দিন খান মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন উপপ্রধান। বাবার বয়স ৮৩। আসফাকের বয়স ২৮ বছর। বাবা-ছেলের বয়সের তফাত ৫৫ বছর হওয়ায় অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে আসফাকের নাম ছিল। শেষমেশ তাঁর নাম বাদ পড়েছে।
রবিবার সকালে তমলুকে জেলাশাসকের অফিসে সর্বদলীয় মিটিং করেছেন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সোমনাথ বেরা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের আর্জিও জানান।