• বাঙালির মন জয়ে মাছ হাতে নিয়ে প্রচার সুজয়ের, মেদিনীপুরে পালটা মাছ বিক্রি পদ্মপ্রার্থীর
    বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ ভালোবাসেন না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু এই মাছকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত মেদিনীপুরের রাজনীতি। কারণ, শুক্রবার মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা প্রচারে বেরিয়ে শহরের রাজাবাজারে হাতে রুই মাছ তুলে স্লোগান দিয়েছিলেন মাছ খাবে বাঙালি। এতে ব্যাপক মাইলেজ পায় ঘাসফুল শিবির। চায়ের দোকান থেকে ছোটো আড্ডার ঠেকেও আলোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ বিক্রিও বন্ধ হবে। আর এই ঘটনার একদিন বাদেই রবিবার মেদিনীপুর শহরের কোতোয়ালি বাজারে মাছ নিয়ে বসলেন পদ্মপ্রার্থী শঙ্কর গুছাইত। অঙ্কের শিক্ষক শঙ্করবাবু চিংড়ি মাছ হাতে বললেন, মাছ খাবে সবাই।  

    উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন মেদিনীপুর। এই আসনে পোড় খাওয়া নেতা তৃণমূলের প্রার্থী সুজয় হাজরা পুরোদমে প্রচার চালাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা হোক কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন প্রতিটি ক্ষেত্রেই জেলায় এগিয়ে থেকেছে তৃণমূল। এমনকী, গত উপনির্বাচনেও প্রায় ৩৩ হাজার ভোটে জয়ী হন সুজয়বাবু। ফের বিধানসভা নির্বাচন আসতেই সুজয় বাবু জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি উন্নয়নের পাশাপাশি গেরুয়া বাহিনীর জনবিরোধী নীতি মানুষের সামনে তুলে ধরছেন। 

    এক তৃণমূল নেতারা কথায়, বিজেপিশাসিত কিছু রাজ্যে মাছ বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা সামনে এসেছে। এমনকী, কলকাতায় প্যাটিস কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির মুখোশ সামনে আসে। এছাড়া ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির তাণ্ডব মানুষ ভোলেননি। প্রচারে সেই বিষয়গুলিও আমরা তুলে ধরছি। মেদিনীপুর শহরের এক বিজেপি নেতার কথায়, তৃণমূলের কাউন্টার করা ছাড়া উপায় নেই। লড়াইয়ে টিকে থাকতে তাই নানা পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। কাজেই মাছ নিয়ে রাজনীতি বেশ জমে উঠেছে। মেদিনীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর দে বলেন, মাছ নিয়েই যত রাজনীতি শুরু হয়েছে। কেউ মাছ বিক্রি বন্ধ করতে এলে সাধারণ মানুষ ছেড়ে কথা বলবে না। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূল প্রার্থী মাছ নিয়ে অপপ্রচার করছেন। যা একেবারেই মানা যায় না। বাঙালি মাছ খাবে।  তৃণমূল প্রার্থী সুজয়বাবু পালটা বলেন, আমিষ ও নিরামিষের কথা বিজেপি বলে। আমরা তো বলি না। আমরা শুধু বলেছি বাঙালি মাছ খাবে। এক প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনাও আমরা দেখেছি। বিজেপি নেতারা অনুকরণ করতে ওস্তাদ। ওদের নিজস্বতা বলে কিছু নেই। 
  • Link to this news (বর্তমান)