• হার মানে না বাংলা: মমতা, ‘ধর্মের নামে বিভাজন চায় বিজেপি, একজোট হয়ে রুখব’
    বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • অভিষেক পাল, জিয়াগঞ্জ: ‘আগে আমরা মানুষ। তারপর আমাদের ধর্ম। ধর্ম থাকবে মনে, থাকবে প্রাণে। ধর্মকে বিক্রি করবেন না। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না। বিজেপি ধর্মের নামে বিভাজন চায়। তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ব।’ রবিবার মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে এই ভাষাতেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে স্রেফ তোপ দেগেই ক্ষান্ত হননি তিনি। তাঁর প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা লাগানো বা বাংলা ভাগ করার রাজনীতি আমরা সহ্য করব না। বাংলা জাগবে। নতুন ভোর আসবে। হার মানবে না বাংলা। হার মানে না বাংলা।’ 

    রবিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং জিয়াগঞ্জের জোড়া জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থী নুর আলম ও শাওনি সিংহ রায়ের সমর্থনে জনসভা করেন মমতা। দুই সভা থেকেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির পতন নিশ্চিত। আগামী দিনে বাংলাই দিল্লি দখল করবে।’ মমতার এই হুংকারে করতালিতে ফেটে পড়ে সভাস্থল। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাঁদের সোচ্চার সমর্থন ঘোষণা করেন সম্মিলিত জনতা। তার রেশ ধরে মমতা বলতে থাকেন, ‘অন্যায় কোনো ধর্ম দেখে হয় না। অন্যায় যে করে, সে অন্যায় করেই বেঁচে থাকতে চায়। দাঙ্গা করে যাদের হাতে রক্ত লেগে আছে, তারা দাঙ্গা ছাড়া আর কিছু বোঝে না। ...আমি গণতন্ত্রের যোদ্ধা। সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বাঁচতে চাই। মা-বোনেরা আমার সহযোদ্ধা। ভাইয়েরা তাঁদের পাশে থাকবেন।’

    মুর্শিদাবাদ জেলায় এসআইআরে বহু নাম বাদ গিয়েছে। জেলায় সভা করতে এসে স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, শুধু মুর্শিদাবাদের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, এমন নয়! তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও ৪০ হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ৫০ শতাংশ মুসলমানের সঙ্গে ৫০ শতাংশ হিন্দুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানেই মমতার প্রশ্ন, ‘যেসব  ভোটারকে অনুপ্রবেশকারী দেগে দিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের ভোটেই তো লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে। তাহলে একই যুক্তিতে মোদি-শাহের পদত্যাগ করা উচিত।’ কটাক্ষের সুর বজায় রেখে তিনি বলেন, ‘দিল্লির বাবুরা বসন্তের কোকিলের মতো আসেন। বাইরে থেকে নিয়ে আসেন ভাড়াটে সৈন্য। তাদের নিয়ে মিছিল-মিটিং করে ভাবতে থাকেন, এভাবেই জিতে যাব!’ 

    সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে সওয়াল করে মমতা আরও বলেন, ‘একবার বেলুড় মঠে গিয়ে দেখলাম, একটা দরগা রয়েছে সেখানে। জানতে পারলাম, স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দের বাসনা ছিল। তাই এখনও সেটা অক্ষত রয়েছে। তাই বলি, ধর্ম নিয়ে দেশ ভাগ করবেন না। বাংলা ভাগ করবেন না। আমার বাড়িতেও কালীপুজো হয়। আমি তো অন্য ধর্মকে অসম্মান করি না।’ রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই বলে বারবার সরব হয়েছে বিরোধীরা। ভোট-বাজারে সেই অভিযোগের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তাছাড়া, সম্প্রতি একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অন্যায়-অত্যাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। এই পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বড়ো অংশ মুর্শিদাবাদ জেলার। সেই কথা মাথায় রেখে নির্বাচনি সভা থেকে মমতার বার্তা, ‘বাইরের রাজ্য থেকেও অনেকে এ রাজ্যে কাজ করতে আসেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে এসে প্রায় দে়ড় কোটি শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে কাজ করছেন। আমরা তো কাউকে কিছু বলি না। কিন্তু এখান থেকে বাইরে কাজ করতে গিয়ে বাংলা বললে অপমান করা হচ্ছে। এই বিজেপি সরকার কিন্তু চিরকাল থাকবে না।’ ভবানীপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় অশান্তি নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। তাঁর দাবি, ‘বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল। ভবানীপুরে আমার বাড়ির সামনে হামলা হল। আমার পোস্টারে থুতু দিচ্ছিল। পাড়়ার কালীমন্দিরের সামনে জুতো দেখাচ্ছিল। অভিষেকের বাড়ির দিকেও জুতো দেখাচ্ছিল। স্থানীয়রাই প্রতিবাদ করেছে। এটা রাজনীতি হতে পারে না।’ 

    দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে জিয়াগঞ্জের সভা থেকে তিনি ফের বলেন, ‘২৯৪টি কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী। তৃণমূলের কে কোথায় দাঁড়িয়েছেন, ভুলে যান। আমাকে ভোট দিন।’
  • Link to this news (বর্তমান)