শিল্পাঞ্চলের হাল ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সব দলই, কর্মসংস্থানের আশায় ফলতাবাসী
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আর পাঁচটা বিধানসভা কেন্দ্রের তুলনায় ফলতার একটি বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (স্পেশাল ইকোনমিক জোন বা এসইজেড)। এই অঞ্চলের মধ্যে বহু কোম্পানি নিজেদের পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করেছিল। কর্মসংস্থান হয়েছিল বহু যুবক-যুবতীর। স্থানীয় বাসিন্দারাই কথায় কথায় জানালেন, এত লোক এই এসইজেডে কাজ করত যে ডিউটি শুরু ও ছুটির সময় গমগম করত রাস্তাঘাট। রাস্তায় যানজট হয়ে যেত। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বহু দোকানপাট। বিকল্প কর্মসংস্থানের আশা জেগেছিল এলাকায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই শিল্পাঞ্চল থেকে অনেক কোম্পানি পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি কারখানায় কাজ হয়। ফলতার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার ভাই এখন কাজের সূত্রে বাইরে থাকে। এখানে যদি আগের মতো হাল থাকত, তাহলে ওকে আর বাইরে যেতে হত না।’ এক গৃহবধূর কথায়, ‘আমি আগে ওই শিলাঞ্চলে একটি আলোর কারখানায় কাজ করতাম। রোজ ৩০০ টাকা করে পেতাম। পাঁচ বছরের বেশি সময় সেটা বন্ধ। কেন এই শিল্পাঞ্চলের এমন পরিস্থিতি, জানি না কিছু।’ এই পরিস্থিতির বদল চাইছেন এলাকার বাসিন্দারা। আগের মতো সেই ব্যস্ততা ফিরে আসুক ফলতা এসইজেডে—এলাকার মানুষের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা এটাই। মানুষের এই চাহিদা বুঝতে ভুল করেননি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের এবারের প্রার্থীরা। তাই শাসক থেকে বিরোধী—সবার প্রতিশ্রুতির ঝুলিতে সামনেই থাকছে ফলতা এসইজেডের পুনরুজ্জীবন।
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান বলেন, ‘শিল্পকেন্দ্রের হাল ফেরানোর লক্ষ্য রয়েছে আমার। জিতে এলে এক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেব। ফলতা ও আশপাশের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব।’ বামেরাও চাইছে, হাল ফিরুক ফলতা শিল্পাঞ্চলের। সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মী বলেন, ‘আমার মতো ফলতার বহু মানুষ সেটাই চাইছেন। কর্মসংস্থান হলে আগামী প্রজন্মের অনেক সুবিধা হবে।’ একই কথা শোনা গেল বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডার থেকে। তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে ফলতার এই শিল্পকেন্দ্রের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আমরাই ফেরাব। যেসব কোম্পানি চলে গিয়েছে, তাদের কীভাবে ফিরিয়া আনা যায়, সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতি ভোটে এমন প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে তাঁরা ক্লান্ত। তবে রাস্তাঘাট, জল সহ অন্যান্য পরিষেবা পেতে যে বড়ো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তাও অকপটে জানালেন তাঁরাই।