নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রবিবার সকালটা ডোমজুড়ে যেন অন্যরকম এক রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেছিল। রুটিন মেনে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে হেঁটে প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি। রাস্তায় রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, হাত মেলানো, আর ভোটের আবেদন– সবই চলছিল স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু হঠাৎই ধরা পড়ল এক অন্য ছবি। দুর্গাপুর অভয়নগর-১ পঞ্চায়েত এলাকার সিপিএমের একটি কার্যালয়ে ঢুকে পড়লেন তিনি। কোনও কটাক্ষ বা তির্যক বাক্য নয়, বরং কার্যালয়ে উপস্থিত সিপিএম কর্মীদের সঙ্গে বসে জানতে চাইলেন, তাঁদের প্রচারে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না। এমনকী কোথাও রাজনৈতিক কাজে বাধা এলে তাঁকে জানাতে অনুরোধও করেন। এরপর বাম কর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলি করে সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেন তাপস মাইতি।
তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, সব দলই তাদের রাজনীতির প্রচার করুক। মানুষই শেষ পর্যন্ত নিজেদের পছন্দ বেছে নেবে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে সকলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। তিনি জানান, বিরোধী দলের কাছ থেকেও তিনি সম্মান প্রত্যাশা করেন। আর সেই সম্মান না পেলে নিজের ত্রুটিও খুঁজে দেখবেন বলে জানান। কার্যালয়ে উপস্থিত বাম কর্মীদের অনেকেই বিস্ময় মেশানো প্রশংসায় বলেন, এমন রাজনীতি আজকাল সচরাচর দেখা যায় না। রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেও এ যেন বহুদিন আগে হারানো এক মেলবন্ধনের সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া।
অন্যদিকে ডোমজুড়ের বিভিন্ন এলাকা, যেমন জগদীশপুর, সাপুইপাড়া, চামরাইলের বাসিন্দাদের মুখেও শোনা যাচ্ছে একই সুর। তাঁদের দাবি, দুর্যোগের সময়ে একজন সাধারণ কর্মী হিসাবেই তাপসবাবুকে পাশে পেয়েছেন তাঁরা। সেখানে অন্যদের দেখা মেলেনি। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বছরের পর বছর ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই তিনি নিজের গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলেছেন। তাই তাঁর প্রচারে নতুন মুখের পাশাপাশি পুরনো কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও রোজ বাড়ছে। যাঁরা এক সময়ে দল থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তাঁরাও আবার ফিরে আসছেন। পুরনো কর্মীদের অনেকেই বলছেন, পদমর্যাদা নয়, সহজ-সরল ব্যবহার আর মাটির টানই একজন নেতার আসল পরিচয়। গাড়িতে চেপে দূরত্ব বজায় রেখে নয়, কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হেঁটে চলার মধ্যেই যেন তাপস মাইতির আসল সত্ত্বা ফুটে উঠছে। -নিজস্ব চিত্র