নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনলাইন পোস্টে হাজার-লাখো লাইক, ভিউয়ার্স কিংবা সাবস্ক্রাইবার— সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কত সক্রিয়, কার জনপ্রিয়তা বেশি, ডিজিটাল প্রচারে কে এগিয়ে, আজকের যুগে ভোটযুদ্ধে সেটাও প্রার্থীর অন্যতম হাতিয়ার। ভোট প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার গত এক দশকে বেড়েছে। প্রচারে আসছে নিত্যনতুন কৌশল, থাকছে অভিনবত্ব। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার ‘বুমিং’য়ের মুখে এখনও ভোট ময়দানে প্রার্থীদের পয়লা পছন্দ সাবেকি কায়দায় ‘ডোর টু ডোর’ প্রচার অর্থাৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া। মুঠোফোনের মাধ্যমে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইউটিউবের জোরে মানুষের ‘চর্চা’য় উঠে এলেও বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের জুড়ি মেলা ভার, বলছেন রাজনৈতিক নেতারা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে বিজেপি এমনিতেই অন্যদের তুলনায় খানিকটা এগিয়ে। গত কয়েক বছরে দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের হাত ধরে তৃণমূলও সামাজিক মাধ্যমে ‘বিস্তার’ বাড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই বামেরাও। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে দল কিংবা প্রার্থীর নতুন নতুন ফেসবুক পেজ তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এখানে পোস্ট করা হচ্ছে প্রচারমুখী নানা গান, বিরোধীদের কটাক্ষ করার মিম। চলছে ট্রোল, পালটা ট্রোলের বন্যা। রাজনীতির কারবারিরা সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে সাধারণ মানুষের মনের দখল নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। ফেসবুক গড়ছে ভার্চুয়াল জনাদেশ! কিন্তু এতসবের পরেও আজও সাবেকি পথেই প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। হেঁটে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বর্ণাঢ্য রোড-শো থেকে শুরু করে পাড়া-অলিগলি, বস্তির ঘরে ঘরে করজোড়ে পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁরা। এতে জনসংযোগ আরও জোরদার হয়, বলছেন প্রার্থীরাই।
যাদবপুরের তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারের কথায়, গত ১০-১৫ বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটের প্রচার প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু চিরাচরিত প্রচার ধারে-ভারে অনেকে এগিয়ে। ভার্চুয়ালি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিবর্তে কারও বাড়িতে গিয়ে কথা বলা, শুভেচ্ছা বিনিময়, এসব অনেক বেশি গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। তাই আজও মাঠে-ঘাটে প্রচার করে জনসংযোগে শান দিতে চান প্রার্থীরা।
অন্যদিকে, শ্যামপুকুর এলাকার বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর টিম নিয়মিত অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখছেন। তবে প্রতিদিন নিয়ম করে দু’বেলা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন পাথুরিয়াঘাটার ব্রাহ্মণ পরিবারের বধূ বিজেপির এই মহিলা নেত্রী। বলছেন, সামনাসামনি কথা হলে ভোটারের মন বোঝা আরও সহজ হয়। সরাসরি কথা বলতে পারলে মানুষ তাঁদের অভাব-অভিযোগ কথা জানাতে পারেন। কোন মানুষ কোন দিকে ঝুঁকে রয়েছেন, তা বাড়ি গেলেই একমাত্র আঁচ পাওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার যতই আধুনিক হোক না কেন, রাজনীতির ময়দানে লেগে থাকতে হলে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে জনসংযোগের কোনো বিকল্প নেই।