এবার বিজেপিকে নিশ্চিহ্ন করতে হবেই, সাতগাছিয়ার সভায় হুঙ্কার অভিষেকের
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, সাতগাছিয়া: সাতগাছিয়া কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে গতবারের চেয়ে বেশি ভোট চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকালে সাতগাছিয়া কেন্দ্রের বজবজ-২ ব্লকের মুচিসায় তৃণমূলের নির্বাচনি জনসভা ছিল। সেখানে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলেন, ‘এবার এর ব্যতিক্রম যেন না-হয়!’ বস্তুত এই ভাষাতেই উৎসাহিত করলেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের। দলের সেনাপতি কী বার্তা দেন, তার শোনার জন্য মুখিয়ে ছিলেন ননা বয়সি মানুষ। তাঁরা দীর্ঘসময় অপেক্ষাও করেন।
অভিষেকের আসার কথা ছিল বিকেল ৪টায়। কিন্তু তিনি গোসাবা থেকে মুচিসায় হেলিকপ্টারে এসে পৌঁছান ৫টা নাগাদ। মঞ্চে পা দিয়েই জননেতার চোখে আম জনতার চঞ্চলতা ধরা পড়ে। ফলে অভিষেক শুরুতেই মঞ্চের সামনে গিয়ে আম জনতার উদ্দেশে নতজানু হয়ে প্রণাম জানান। তারপর করজোড়ে বলেন, আমার পরপর দুটো কর্মসূচি ছিল। তাই একটু দেরি হল। এর মধ্যে বৃষ্টিও হল। যদিও বৃষ্টি তৃণমূলের পক্ষে শুভ। এখানে মহিলা পুরুষ যুবক যুবতী থেকে মা বোন ভাই দিদি যারা এসেছেন, সকলেই আমার পরিবারের অংশ। কারণ আপনাদের কাছ আমি যখন যা চেয়েছি, আপনারা আমাকে তাই দিয়েছেন। খালি হাতে ফেরাননি। আমিও সাংসদ হয়ে সাধ্যমতো আপনাদের কিছু দিয়েছি। ২০১৪ সাল থেকে এমনটা হয়ে আসছে।
ভোটারদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, একুশে সাতগাছিয়া কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীকে ৩৭ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র আমাকে ৬০ হাজার ভোটে জিতিয়েছে। ওই দুটো ভোটে বিজেপির দফারফা করেছেন আপনারা। এবার সোমাশ্রী বেতালকে আরো বেশি ভোটে জেতাতে হবে। এই লোকসভা আসনের সাতটি কেন্দ্রের ভিতর সাতগাছিয়াই যেন প্রথম হয়।
এদিন বিজেপি প্রার্থী অগ্নীশ্বরের কড়া সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, স্কুলে কোন ছাত্র ফেল করলে তাকে বার করে দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে দেখুন, বিজেপি প্রার্থী অগ্নীশ্বর ২০২১ সালে বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে ঘাড় ধাক্কা খেল। এবার ফের সেখানে নাম উঠল। ভয়ে পালিয়ে এল। এখন সেই ফেলুরামই সাতগাছিয়ায়! আপনারা একে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবেন। এমন জবাব দেবেন যাতে ১০০ বছরেও দাঁড়াতে সাহস না-পায়! অভিষেকের দাবি, কোনো ভদ্রলোক বিজেপি করে না। চোর, চিটিংবাজ, মাতাল, বেইমান, তোলাবাজরাই এই দল করে। এজন্য দেখবেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এরা মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে।
অভিষেক বলেন, এদের সঙ্গে কোনো ভালো লোক নেই। পোস্টার ও দেওয়াল লেখার লোক নেই। বুথে এজেন্ট দেওয়ার লোক খুঁজে পাচ্ছে না। তাই বিজেপি কিছুই করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের জন্য কাজ করে আসছেন। আগামীতেও করবেন। ৮০ কোটি টাকায় রাস্তা হয়েছে। ঘরে ঘরে পানীয় জল এসেছে। চালু হয়েছে চিকিৎসা পরিষেবা। আগামীতে আরো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে।
এদিন অভিষেকের ভাষণের মাঝে সভাস্থল থেকে অনেকে বলেন, আমরা বাড়ির টাকা পাইনি। আমাদের অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কী করব? অভিষেকের আশ্বাস, ভোটের ফল প্রকাশের ২৫ দিনের ভিতরই বাড়ি তৈরির টাকা পেয়ে যাবেন। আতঙ্কিত হবেন না। আমি থাকতে কারো নাম বাদ যাবে না। ওইসঙ্গে ব্লক নেতাদের তিনি নির্দেশ দেন, বাদ যাওয়া সকলের নামের তালিকা দিন। সাতগাছিয়ার প্রতিটি বুথে জয় চাই। বিজেপিকে নিশ্চিহ্ন করতেই হবে।