পর্ণশ্রীতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল, আটক ২
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পর্ণশ্রীতে বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলে বিরুদ্ধে। আবার বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের পালটা অভিযোগ, বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের পোস্টার এবং হোর্ডিং ছিঁড়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরের লোকজন। অভিযোগ ও পালটা অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার স্লোগান যুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পর্ণশ্রী থানা সংলগ্ন এলাকা। দু’দলের কর্মী-সমর্থকরা বচসায় জড়িয়ে পড়ে। পর্ণশ্রী থানার সামনে অবস্থানে বসেন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। বন্ধ হয়ে যায় থানার সামনের রাস্তা। তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এই ঘটনায় দু’জন তৃণমূল কর্মীকে আটক করেছে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ।
রবিবার দুপুরে ঘটনার সূত্রপাত। বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের অভিযোগ, এদিন বিকালে পর্ণশ্রী থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বিজেপির একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূলের কয়েকজন দুষ্কৃতী। ভেঙে দেওয়া হয়েছে চেয়ার-টেবিল। ছেঁড়া হয়েছে পোস্টার। এখানেই শেষ নয়, তারা বিজেপির কয়েকজন কর্মীকেও মারধর করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ। এরপরই তিনি দলবল নিয়ে হাজির হন পর্ণশ্রী থানায়। প্রার্থী অভিযোগ জানাতে ভিতরে ঢুকলে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দেন তাঁরা। বিজেপি সূত্রে খবর, থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে ভিডিয়ো ফুটেজ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, দুষ্কৃতীরা নির্বাচনি কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছে। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় সহ আরও ৫-৬ জনকে সেই ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা গিয়েছে। তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের দুই কর্মীকে আটক করেছে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ।
এরপরই ঘটনাস্থলে হাজির হন তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পালটা অভিযোগ দায়ের করেন তিনিও। থানার ভিতরে যখন দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিচ্ছেন, তখন থানার বাইরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা পর্ণশ্রী থানার সামনে হাজির হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামে পুলিশ। অফিসার ইনচার্জ সত্যপ্রকাশ উপাধ্যায় ঘটনাস্থলে এসে দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের আলাদা করে সরানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় ডাকতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। চলে আসেন ডেপুটি কমিশনার (এসডব্লুডি) রাহুল দে। দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের থানা থেকে বেশ কিছুটা দূরে সরিয়ে দেন তিনি। বিজেপি কর্মীদের দাবি, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী তাদের খুনের চেষ্টা করেছিল। তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, বেহালার মানুষ বিজেপিকে চায় না। তারা বুঝে গিয়েছে, এবারের ভোটে গেরুয়া ফুল ফুটবে না। তাই মিথ্যা অভিযোগ করে তৃণমূলের বদনাম করতে চাইছে। ওরা আমার পোস্টার ছিঁড়ে দিয়েছে, সেই ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। সেই ভিডিয়ো আমরা থানায় জমা দিয়েছি। আমাদের দুই কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। যতক্ষণ না অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করবে, ততক্ষণ থানায় বসে থাকব।