রাহুলের মৃত্যু নিরাপত্তার দাবি টলিউডের, মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
আগামী মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি টলিউডে। সমস্ত ধারাবাহিক ও সিনেমার শ্যুটিং বন্ধ থাকবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। শিল্পী থেকে টেকনিশিয়ানদের সুরক্ষা প্রোটোকল তৈরি করতে হবে, এই দাবিকে সামনে রেখে কর্মবিরতির ডাক দিল টলিপাড়া। রবিবার বিকেলে সবপক্ষের উপস্থিতিতে জরুরি বৈঠক হয় টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রিয়াঙ্কা সরকার, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক ও বিনোদন চ্যানেলের প্রতিনিধিরা। সকলের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শ্যুটিং ফ্লোরে সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে। যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন শ্যুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে শ্যুটিংয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ঘটনায় শ্যুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে কারণে একজোট হয়ে কঠোর পদক্ষেপ টলি পাড়ার। এবার থেকে প্রত্যেক শ্যুটিংয়ের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রাখা বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠেছে। এদিন আর্টিস্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট তথা অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সকল শিল্পী, কলাকুশলীদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই শুরু হল। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাটাচ্ছি আমরা। আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার ও ফেডারেশনের সাত হাজার সদস্য একজোট হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ মঙ্গলবার সকাল দশটায় টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে পৌঁছবেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাহুল চলে গিয়ে আমাদের এক করে দিয়ে গেল। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়েছে। আমাদের এই সিদ্ধান্তে প্রযোজকরাও পাশে রয়েছেন।’ ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘সংখ্যাটা কেবল ১১ হাজার নয়। তাঁদের পরিবার রয়েছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে প্রায় তিরিশ, চল্লিশ লক্ষ মানুষ যুক্ত। সেখানে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শিল্পী হোক বা কলাকুশলী, তাঁদের কে দেখবে?’ যে সমস্ত ধারাবাহিকের এপিসোড ব্যাংকিং নেই, সেগুলির কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রাহুলের মৃত্যুতে শনিবার রাতে ব্যক্তিগতভাবে এফআইআর দায়ের করেছেন স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। ওড়িশার তালসারি মেরিন কোস্টাল থানায় ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার্স আর্টিস্ট ফোরাম। সেখানে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা সহ আরও অনেকে। সেখান থেকেই তালসারির উদ্দেশে রওনা দেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, যিশু সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস, ইন্দ্রাশিস রায়। রাত ১১টা নাগাদ বালাসোরে পৌঁছন। সেখানেই রাহুলের মৃত্যুতে দ্বিতীয় অভিযোগ দায়ের হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ (১), ২৪০ ও ৩(৫) তিন ধারায় মামলা হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়াও পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এগজিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী, ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, শ্যুটিং করার আগে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে শ্যুট চলছিল। এই গাফিলতির কারণেই অভিনেতার মৃত্যু হয়। মিথ্যা তথ্যপ্রচার, অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও এনেছেন রাহুলপত্নী। কারণ ঘটনার পর প্রযোজনা সংস্থার তরফে একাধিক বয়ান সামনে এসেছিল। যার জেরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আরজি জানিয়েছেন তিনি। কেন অভিযোগ জানাতে দেরি, অভিযোগপত্রে সে প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, ‘স্বামীকে হারিয়ে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। ফলে অভিযোগ জানাতে বিলম্ব হল।’ রাত দু’টোর পর কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। পরপর দু’টি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও রবিবার রাত পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বরং যে ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ে রাহুলের মৃত্যু হল, সেই ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের তৃতীয় সিজন শুরু হয়েছে শনিবার বিকেল থেকে। যা ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।