• দল না দেখেই চন্দন বাড়ান সাহায্যের হাত
    এই সময় | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ময়ূরেশ্বর: তাঁর রাজনৈতিক সতীর্থরা অনেকেই পদের লোভে একে একে দল ছেড়ে গিয়েছেন। তাঁর কাছেও এসেছিল নানা লোভনীয় প্রস্তাব, জুটেছে হুমকিও। তবুও সব উপেক্ষা করে সৈয়দ কাসাফদ্দোজা ওরফে চন্দন তাঁর দল কংগ্রেসকেই আঁকড়ে থেকেছেন। পুরস্কার হিসেবে এ বারের বিধানসভা ভোটে তাঁকে ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রের প্রার্থী করেছে কংগ্রেস।

    বীরভূমের মল্লারপুরের শিউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা, ৫৮ বছরের কাসাফদ্দোজার জন্ম কংগ্রেসি পরিবারেই। তাঁর মা কানিজ ফতেমা সিপিএম জমানায় সংশ্লিষ্ট বাজিতপুর পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। চন্দন নিজেও এর আগে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান ও সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে দলের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন চন্দন। হাসিমুখ এবং বিনয়ী ব্যবহারের জন্য গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। সেই পরিচিতির সুবাদেই এ বারে তাঁকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। প্রার্থিপদ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দন এ বারের ভোটে কিছুটা হলেও তৃণমূলকে চাপে ফেলতে পারেন। গদাধরপুর বাজারের এক আনাজ বিক্রেতা ও রাতগড়ার এক প্রান্তিক চাষি বলেন, 'উনি প্রধান এবং উপপ্রধান থাকার সময় থেকেই দেখেছি, কেউ কোনও সমস্যায় পড়ে ওঁর কাছে গেলেই সমাধান করে দিয়েছেন। আজও সমস্যায় পড়লে ওঁকে পাশে পাই। সাহায্য করার সময়ে তিনি দলমত দেখেন না। সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।'

    কাঁদিয়ারার আলপনা দাস, পাথাইয়ের সুনীল মণ্ডলরা বলেন, 'ওঁর একটা বড় গুণ, যদি কিছু করতে না-ও পারেন, তবুও সমস্যার কথা শুনলে বিরক্ত হন না। না পারলে নিজের অক্ষমতার কথা জানিয়ে দেন। কার কাছে গেলে সমাধান মিলতে পারে, সেটাও জানিয়ে দেন।' তৃণমূলে যোগ দেওয়া স্থানীয় এক প্রাক্তন কংগ্রেস কর্মী বলেন, 'চন্দনদার সঙ্গে অনেক দিন রাজনীতি করেছি। খুব কাছ থেকে তাঁর পঞ্চায়েত পরিচালনা দেখছি। সেই হিসেবে বলতে পারি, তাঁর মতো মানুষ প্রশাসনে থাকলে মানুষ উপকৃত হবেন।'

    ২০২১-এর নির্বাচনে ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শ্যামাপদ মণ্ডলকে প্রায় ১২,০৭৫ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তৃণমূলের অভিজিৎ রায়। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের একটা বড় অংশ সংখ্যালঘু। সেই ভোটে চন্দন থাবা বসাতে পারেন বলে মত রাজনৈতিক মহলের। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী চন্দন নিজেও। তিনি বলেন, 'শাসকদলে যোগ দেওয়ার জন্য নানা প্রলোভন এসেছে। এমনকী, নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার জন্য হুমকিও এসেছে। আমি নীতিভ্রষ্ট হতে পারিনি। ভয় পেয়ে ঘরে ঢুকেও যাইনি। আশা করি, এলাকার মানুষ সে কথা মনে রেখে আমার পাশে থাকবেন।' তাঁর সতীর্থ হিসেবে পরিচিত শাসকদলে যোগ দেওয়া ময়ূরেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির এক কর্মকর্তা, রামপুরহাটের এক দলীয় পদাধিকারী বলেছেন, 'চন্দন চাইলে শাসকদলে যোগ দিয়ে লোভনীয় সুযোগ নিতে পারত। কিন্তু দল ছেড়ে আসেনি।' জেলা কংগ্রেসের আর এক সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টরাজ বলেন, 'প্রার্থী কিংবা দলীয় পদ পাওয়ার জন্য দলবদলের হিড়িকে চন্দনের মতো নীতিপরায়ণতা একদম একটা নজির।' তৃণমূলের প্রার্থী তথা দু'বারের বিদায়ী বিধায়ক অভিজিৎ রায় অবশ্য গুরুত্ব

  • Link to this news (এই সময়)