• লাল থেকে সবুজ হয়ে গেরুয়া শিবিরে কৃষ্ণেন্দু
    এই সময় | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: উত্তর আসানসোল বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় বারের জন্য বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। বাম ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে একাধিক দল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজ তিনি পৌঁছেছেন আজকের জায়গায়।

    শৈশবে আসানসোলের রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা করতেন কৃষ্ণেন্দু। ছোটবেলার এক দুষ্টুমির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এক বন্ধুর টিফিন খেয়ে বাক্সে বালি ভরে দিয়েছিলেন। মা জেনে তাঁকে বোঝান, এমন তাঁর সঙ্গে হলে কেমন লাগত। এই ঘটনা তাঁর জীবনের শিক্ষার অংশ হয়ে আছে। আর একটি ঘটনায় সহপাঠী অনির্বাণ দাসের (বর্তমানে এক প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক) টিফিন খেয়ে নিয়েছিলেন কৃষ্ণেন্দু। রেগে ডাস্টার ছুড়ে মেরেছিলেন সেই বন্ধু, মাথায় লেগে তিনটে সেলাই পড়ে। মহারাজ কী হয়েছে জানতে চাইলে বলেছি‍লেন, রেলিংয়ে মাথা লেগে ফেটে গিয়েছে। পরে অনির্বাণ ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

    পড়াশোনার পর আসানসোলের বিসি কলেজে কমার্স নিয়ে ভর্তি হন তিনি। তখনই যুক্ত হন বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের তৎকালীন মন্ত্রী ভক্তিভূষণ মণ্ডলের নজরে পড়ে তিনি যোগ দেন ওই দলে। সেখান থেকে ২০০১–এ মলয় ঘটকের হাত ধরে তৃণমূলে প্রবেশ। পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসাতেও যুক্ত হন।

    কৃষ্ণেন্দু জানালেন, ২০১১–তে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। এর পরে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। ২০১৭–তে বার্নপুরে একটি ক্লাবের অনুষ্ঠান নিয়ে একাধিক মামলার মুখে পড়ে তিনি আসানসোল ছাড়েন, যদিও ২০১৯–এ ফিরে এসে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর দাবি, সেই সময়ে বিজেপি তাঁকে সহযোগিতা করে। এর পরেই তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১–এর পরে উত্তর আসানসোলে এ বারও তিনি পদ্ম–শিবিরের প্রার্থী। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মলয় ঘটক, যাঁর হাত ধরে একসময়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।

    এলাকার সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বহু মৌলিক সমস্যা রয়ে গিয়েছে। জুবিলি মোড় থেকে বার্নপুর পর্যন্ত অসম্পূর্ণ রাস্তা, রেল টানেলের পাশের দূষণ, গ্রামীণ ওয়ার্ডগুলিতে আবাসন ও শৌচালয়ের অভাব— জিতলে এ সব সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হবেন তিনি। রেলপার এলাকায় মাদকের কারবার বন্ধ করা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করার কথাও তিনি বলেন।

    দলবদলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে তাঁর ভাবমূর্তিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। সব মিলিয়ে একাধিক রাজনৈতিক বাঁক পেরিয়ে এ বারের নির্বাচনে নিজেকে নতুন ভাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েই ময়দানে নেমেছেন কৃষ্ণেন্দু।

  • Link to this news (এই সময়)