৪টি রাজ্য ও ১টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট ঘিরে তুমুল প্রচার চলছে দেশে। বাংলা, অসম থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যে জোর প্রচার চালাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। তারই মধ্যে পড়েছে বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়েও কার্যত বিজেপির প্রচারই সারলেন তিনি। আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস এবং অ-বিজেপি দলগুলিকে। তার সঙ্গেই এনডিএ জোট এবং শরিকদের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল তাঁর মুখে।
কংগ্রেসকে আক্রমণের সময়ে বার বার ইমার্জেন্সি পিরিয়ডের প্রসঙ্গ তোলে বিজেপি। এ দিনও সেই অস্ত্রেই শান দিয়েছেন মোদী। মনে করিয়ে দিয়েছেন ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের বিপুল ভোটে জয়ের কথা। এ দিন নরেন্দ্র মোদী তোপ দাগেন, ১৯৮৪ সালে রেকর্ড ভোটে দিতেও সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে কংগ্রেস।
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপির উত্থানের প্রসঙ্গও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। ক্ষমতার আসার পরে বিজেপি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে, তিন তালাক বিরোধী আইন এনেছে, সিএএ আইন এনেছে। এ দিন সেই প্রসঙ্গ শোনা যায় মোদীর মুখে। অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরির কথাও বলেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গ তুলে মোদীর বার্তা, যে যে কাজগুলি আগে অসম্ভব বলে মনে করা হতো, সেগুলি সম্ভব করেছে বিজেপি। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে নরেন্দ্র মোদী আশ্বাস দিয়েছেন, এক দেশ এক নির্বাচন (One Nation One Election) এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) দ্রুত আনবে তাঁর সরকার। অনুপ্রবেশ, দেশে জনবিন্যাস বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মোদী, এটা ঠেকানোর জন্য বিজেপি কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোদী। তাঁর দাবি, NDA- রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য তৈরি হয়েছে। যত দিন গিয়েছে, NDA আড়ে-বহরে বেড়েছে। মোদী বলছেন, এতে প্রমাণ হয় বিজেপি সবার সঙ্গে মিশে কাজ করে। আঞ্চলিক আশা-আকাঙ্খার প্রতি মনোযোগ দেয়।
মহিলা সংরক্ষণের প্রসঙ্গও শোনা গিয়েছে মোদীর মুখে। ১৯৯৪ সালেই বিজেপি মহিলা সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ক্ষমতায় এসে সেই কাজ করেছে তাঁর দল, দাবি মোদীর। ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের লক্ষ্যও এ দিন বলে দিয়েছেন মোদী। ওই বছরে নারী শক্তিকে সামনে রেখে বিজেপি লোকসভা ভোটে লড়বে বলে ইঙ্গিত তাঁর।